নূরুল হক, আগরতলাঃ
ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় ভূখণ্ডে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে এবার বিজিবি তথা বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের বাঁধার মুখে পড়তে হল ত্রিপুরা সরকারকে। বিজিবির বাঁধার মুখে আটকে গেল ভারতীয় নাগরিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত শ্মশান ঘাট যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের কাজ। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৈলাশহ এলাকায়। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পরামর্শে কাজ বন্ধ রেখে সেখান থেকে চলে আসতে হয়েছে ভারতীয় ঠিকাদার সহ রাস্তা নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের।
এই বিষয়ে আগামী দিনে বিএসএফ এবং বিজিবির কমান্ডার স্তরে ফ্লেগ মিটিং এর মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায় ত্রিপুরার কৈলাসহর পুর পরিষদ এলাকার ৯নং ওয়ার্ডে মনু ল্যান্ড কাস্টম সংলগ্ন শ্মশান ঘাট যাওয়ার রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবতই ভগ্নদশায় রয়েছে। ক্ষতবিক্ষত রাস্তার উপর দিয়ে শব দেহ নিয়ে শ্মশান ঘাটে যেতে অসুবিধা হয় শবযাত্রীদের। এলাকার নাগরিকরা দীর্ঘদিন যাবতই এই রাস্তা সংস্কারের অভাবে সমস্যায় ভুগছিলেন।
সম্প্রতি ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের তৎপরতায় এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কাজ করছেন ঠিকাদার আব্দুল মান্নান(ভারতীয়)। সোমবার এই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারের বিবরণ অনুযায়ী রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সীমান্তের ওপার থেকে পতাকা নিয়ে এসে হাজির হয় একদল বিজিবি। যেহেতু রাস্তাটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে তাই এখানে কোন ধরনের সরকারি কাজ করা যাবে না বলে বিজিবি আপত্তি তুলে। সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তথা বিএসএফের জোয়ানরা।
বিএসএফের স্থানীয় আধিকারিকরা বিজিপির আপত্তির কথা জেনে এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরবর্তীকালে এই বিষয়ে আলোচনা এবং সমাধানের আগ পর্যন্ত এই রাস্তা সংস্কারের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এই বিষয়ে আগামী দিনে বিএসএফ এবং বিজিপির মধ্যে ফ্লাট বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে বিএসএফ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডদের আপত্তিতে ভারতীয় ভূখণ্ডে শ্মশানে যাবার রাস্তায় সংস্কারের কাজ বন্ধ হয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাগরিক মহলে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পরিবর্তনের পর গত এক বছরের বেশি সময় যাবত অস্থিরতা রয়েছে। সে দেশের আভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভেসে আসে ভারত বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য।
এসব ঘটনায় এমনিতেই পেপারের নাগরিক মহলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ রয়েছে। এর মধ্যেই সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় ভূখন্ডে শ্মশানে যাবার রাস্তা তৈরিতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডদের বাধা দেওয়ার বিষয়টি নাগরিকরা ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তবে আপাতত বিএসএফ এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে এবং প্রশাসনিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলে জানা গেছে ।