বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার ঐতিহাসিক শুনানিতে হাজির

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 d ago
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার ঐতিহাসিক শুনানিতে হাজির
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার ঐতিহাসিক শুনানিতে হাজির
 
নতুন দিল্লি

ভোট-নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ তদারকি (এসআইআর) মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন। বুধবার দুপুর ১টার পর সুপ্রিম কোর্টে শুরু হওয়া শুনানিতে তিনি বেঞ্চের কাছে পাঁচ মিনিট বক্তব্য রাখার আবেদন করেন।
 
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। গোটা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে চাই। এসআইআর-এর নামে কী হচ্ছে, তা বোঝাতে পাঁচ মিনিট সময় চাই। আমি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ছ’বার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। এমনকি বিবাহের পর পদবি পরিবর্তনের কারণে ভোটার তালিকা থেকে নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই লড়াই দলের জন্য নয়, রাজ্যের মানুষের জন্য।”
 
মমতার এ উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকারের ওপর গুরুত্বারুপ করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা সমগ্র রাজ্যের জনগণের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে।
 
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ জানান, 'বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজারভার নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরাই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছেন। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছেন। অনেকে জীবিত রয়েছেন। মাইক্রো অবজার্ভার নাম মুছে দিচ্ছেন। অসমে কেন এসআইআর হচ্ছে না? হঠাৎ ভোটের আগে ২৪ বছর পর কেন বাংলায় এসআইআর হচ্ছে?' 
 
সওয়ালের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমার কাছে কিছু ছবি রয়েছে। সেটি দেখানোর অনুমতি দেওয়া হোক। সেটি আমার ছবি না। প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের ছবি। আপনারা আধার কার্ড নিতে বলেছিলেন। কিন্তু নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হয়েছে। ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন! বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে।' 
 
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী সোমবার। মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গ দেন তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা ও দলের এমপি কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতারা। সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিতি রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিকভাবে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মমতার এই পদক্ষেপ ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের উপর দেশের নজর আকর্ষণ করবে। আজকের শুনানি থেকে আদালতের যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা ভবিষ্যতের ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নাগরিক বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।