বিজেপির ‘সনাতন রাজনীতি’র আবহে মমতার বড় বার্তা! রাজ্য মহিলা তৃণমূলের নেতৃত্বে মুসলিম মুখ আলিফা আহমেদ

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Aparna Das • 7 d ago
বিজেপির ‘সনাতন রাজনীতি’র আবহে মমতার বড় বার্তা! রাজ্য মহিলা তৃণমূলের নেতৃত্বে মুসলিম মুখ আলিফা আহমেদ
বিজেপির ‘সনাতন রাজনীতি’র আবহে মমতার বড় বার্তা! রাজ্য মহিলা তৃণমূলের নেতৃত্বে মুসলিম মুখ আলিফা আহমেদ
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী 

ভোটের উত্তাপ পুরোপুরি না কাটতেই সংগঠনে বড় রদবদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের নতুন রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিধায়ক আলিফা আহমেদ। শুক্রবার, ১২ জুন দলের তরফে প্রকাশিত এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। দলীয় সূত্রে খবর, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পূর্ণ অনুমোদনেই এই নিয়োগ করা হয়েছে।
 
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সাংগঠনিক রদবদল নয়, এর মধ্যে রয়েছে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও। এমন এক সময়ে, যখন জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ, ‘সনাতন’ ভাবনা এবং সংখ্যাগুরুতাবাদের প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে, তখন রাজ্যের শাসকদল একজন মুসলিম মহিলা নেত্রীকে মহিলা সংগঠনের সর্বোচ্চ দায়িত্ব দিয়ে ভিন্ন বার্তা তুলে ধরল বলে মনে করা হচ্ছে।
 
আলিফা আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় মুখ। দলীয় কর্মসূচি, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে বহুবার। বিধায়ক হিসেবে নিজের এলাকায় কাজের জন্যও তিনি পরিচিত। এবার তাঁকে রাজ্য মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদে বসিয়ে দলের নেতৃত্ব যে তাঁর উপর আস্থা রাখছে, তা স্পষ্ট।
 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির অবস্থানকে সামনে আনলেন। বিজেপি যেখানে ‘সনাতন’ ও হিন্দুত্বের রাজনৈতিক বয়ানকে আরও জোরদার করছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং সব সম্প্রদায়ের সমান রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের বার্তাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দাবি শাসকদলের সমর্থকদের।
 
বিশেষ করে একজন মুসলিম মহিলাকে রাজ্যের মহিলা সংগঠনের নেতৃত্বে তুলে আনা সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে নয়, নেতৃত্বের যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকেই প্রাধান্য দিতে চায়।
 
দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী দিনে মহিলা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তোলাই হবে আলিফা আহমেদের প্রধান লক্ষ্য। রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় মহিলা কর্মীদের সংগঠিত করা, নারী স্বনির্ভরতা ও সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মসূচিকে আরও জোরদার করা এবং দলের রাজনৈতিক বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে বর্তাবে।
 
ভোট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের কাজে ব্যস্ত, তখন তৃণমূল কংগ্রেসের এই পদক্ষেপকে আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। তবে শুধু সাংগঠনিক কারণেই নয়, এই সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে বলে মত অনেকের।
 
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। সেই প্রেক্ষাপটে আলিফা আহমেদের নিয়োগকে অনেকেই দেখছেন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলার’ এক নতুন বার্তা হিসেবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপির সনাতন রাজনীতির পাল্টা জবাব দিতে তিনি এখনও বহুত্ববাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের পথেই আস্থা রাখছেন।
 
এখন দেখার, নতুন দায়িত্বে আলিফা আহমেদ কতটা সফলভাবে রাজ্য মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারেন এবং আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ে মহিলা সংগঠনকে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম করেন।