জনতার দরবারে পূর্ণ দাস বাউলের জমি দখলের অভিযোগ, প্রাক্তন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে সরব
কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতা দরবার’-এ গিয়ে জমি দখলের অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট বাউলশিল্পী ও পদ্মশ্রী প্রাপক পূর্ণ দাস বাউল। বুধবার সল্টলেকে বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ নিজেদের অভিযোগ নিয়ে হাজির হন। পূর্ণ দাস বাউলও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
বাউলশিল্পীর অভিযোগ, ২০২০ সালের লকডাউনের সময় থেকে বীরভূমের ইলামবাজারে তাঁর কৃষিজমি প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি জোর করে দখল করে রেখেছেন। এত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই জমি তিনি ফেরত পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজ্য ও দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার পরও নিজের জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কখনও ভাবেননি।
পূর্ণ দাস বাউল অবশ্য অভিযোগে সরাসরি কারও নাম নেননি। তবে তাঁর ছেলে ওই ব্যক্তির নাম ‘কেষ্ট মণ্ডল’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর সঙ্গে কয়েকজন ‘শেখ’ জমি দখলের ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন। ওই ব্যক্তি প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল কি না জানতে চাওয়া হলে পূর্ণ দাস বাউলের ছেলে ইতিবাচক উত্তর দেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এদিনের জনতা দরবারে উপস্থিত ছিলেন নদিয়ার তাহেরপুরের বাসিন্দা সোমনাথ মালো-ও। ২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার প্যারালিম্পিক্সে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে সোনার পদক জিতেছিলেন তিনি। সেই পদক সঙ্গে নিয়েই জনতা দরবারে হাজির হন সোমনাথ।
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ মামলায় চাকরি হারানো প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর মধ্যে রয়েছেন সোমনাথও। সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার পর তাঁর চাকরিও চলে যায়। সোমনাথের দাবি, একসময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতির কারণে আজ তিনি অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মতো চাকরিহারা কর্মীদের দুর্দশা দূর করতে কোনও ব্যবস্থা নেবেন।
তবে পূর্ণ দাস বাউল ও সোমনাথ মালোর অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কোনও প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।