প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্যের অভিযোগ: রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের সমন খারিজে বম্বে হাইকোর্টের অস্বীকৃতি
মুম্বই:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানির মামলায় কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে জারি হওয়া সমন খারিজ করতে মঙ্গলবার অস্বীকার করল বম্বে হাইকোর্ট। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তিনি ‘চোরের সর্দার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।একক বেঞ্চের বিচারপতি এন আর বোরকর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে গান্ধীর করা আবেদন খারিজ করে দেন।
তবে ২০২১ সালে দেওয়া নিজের সেই নির্দেশ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট, যেখানে ম্যাজিস্ট্রেটকে ছয় সপ্তাহের জন্য মামলার শুনানি স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল, যাতে গান্ধী এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন।
বিচারপতি বোরকর বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কোনও ‘বিকৃতি বা বেআইনি কার্যকলাপ’ আদালতের নজরে আসেনি। তাই সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ নেই।হাইকোর্ট বলে, “এই আদালত এই নির্দেশে কোনও ত্রুটি খুঁজে পায়নি। তাই আবেদনটি খারিজ করা হল।”
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট গিরগাঁওয়ের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ওই নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছিল। বিজেপির সদস্য বলে দাবি করা এম এইচ শ্রীশ্রীমল তাঁর বিরুদ্ধে এই মানহানির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
২০১৮ সালে রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর ‘চোরের সর্দার’ মন্তব্যের জেরেই এই মানহানির মামলা করা হয়েছিল।২০২১ সালের নভেম্বরে হাইকোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে এই মানহানির মামলার শুনানি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এর ফলে কংগ্রেস নেতাকে সেই সময় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হতে হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে রাজস্থানে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে রাহুল গান্ধী ওই মন্তব্য করেছিলেন।হাইকোর্টে গান্ধীর আইনজীবী সুদীপ পাসবোলা এবং আইনজীবী কুশল মোর যুক্তি দেন, এই অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং অভিযোগকারী এই মামলা করার অধিকারী নন।
তাঁদের দাবি ছিল, অভিযোগকারী নিজে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ নন, তাই তিনি এই ধরনের অভিযোগ দায়ের করতে পারেন না।অন্যদিকে, শ্রীশ্রীমল তাঁর অভিযোগে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে জনসভায় মন্তব্য করার পাশাপাশি গান্ধী তাঁর ব্যক্তিগত এক্স (পূর্বে টুইটার) অ্যাকাউন্টেও একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ‘চোরের সর্দার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
অভিযোগকারীর দাবি, এই মন্তব্যগুলির মাধ্যমে শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, বিজেপির সমস্ত সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে যুক্ত ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও সরাসরি চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল।শ্রীশ্রীমল হাইকোর্টে গান্ধীর আবেদনটির বিরোধিতা করেছিলেন।