৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে CAA-তে যোগ্য সকল আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব, নদিয়ায় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 8 h ago
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে CAA-তে যোগ্য সকল আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব, নদিয়ায় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে CAA-তে যোগ্য সকল আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব, নদিয়ায় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
 
অরংঘাটা (পশ্চিমবঙ্গ)

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় যোগ্য সকল আবেদনকারীর নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। শুক্রবার নদিয়ার অরংঘাটায় একটি কালীপুজোর মণ্ডপ উদ্বোধন করতে গিয়ে এই ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে CAA কার্যকর করার ক্ষেত্রে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে হাজার হাজার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।
 
মুখ্যমন্ত্রী জানান, নদিয়া এবং সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনা, এই দুই সীমান্তবর্তী জেলায় প্রায় ২.৫ লক্ষ CAA আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা বহু মানুষের বসবাস এই দুই জেলায়। তাঁদের মধ্যে নাগরিকত্বের দাবিদারদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করাই রাজ্য সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
 
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “CAA-র আওতায় সমস্ত যোগ্য আবেদন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। কোনও যোগ্য আবেদনকারী বাদ পড়বেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে।”
 
আবেদনের দীর্ঘদিনের জট কাটাতে তাঁর সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, স্বরাষ্ট্র দফতরের উদ্যোগে জেলাশাসকদের (DM) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহকুমা শাসকরা (SDO) আবেদনগুলির যাচাই প্রক্রিয়া তদারকি করবেন এবং প্রয়োজনীয় শুনানির ব্যবস্থা করবেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি যোগ্য আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
 
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সংসদে পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA। এই আইনে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে। আইনটি পাশ হওয়ার চার বছরেরও বেশি সময় পরে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে।
 
নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় CAA-র বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে নাগরিকত্বের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা এই সম্প্রদায়ের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আইনি নাগরিকত্বের স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
 
এদিনের সভা থেকে আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দুর্গাপুজো আয়োজন এবং প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও আগের সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
 
এছাড়াও এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দুই বছরে রাজ্যের পুরনো মঠ ও মন্দিরগুলির সংস্কার এবং পুনরুদ্ধারের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে রাজ্য সরকার। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ (Tirthakshetra Circuit)।
 
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ট্রাস্ট, দেবোত্তর সংস্থা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সংগঠনের পরিচালনাধীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার করা হবে। তবে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন মঠ ও মন্দির এই প্রকল্পের আওতায় আসবে না।


শেহতীয়া খবৰ