কৃষি জমিতে নতুন আশার আলো! হাড়োয়ার হিন্দু-মুসলিম কৃষকদের জন্য বড় উদ্যোগ, বিনামূল্যেই মিলছে ‘কৃষক আইডি’, সরকারি সুবিধা মিলবে সহজে
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 8 h ago
কৃষি জমিতে নতুন আশার আলো! হাড়োয়ার হিন্দু-মুসলিম কৃষকদের জন্য বড় উদ্যোগ, বিনামূল্যেই মিলছে ‘কৃষক আইডি’, সরকারি সুবিধা মিলবে সহজে
তরুণ নন্দী / কলকাতা
উত্তর ২৪ পরগনার জেলার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া এলাকায় বড় সংখ্যক মানুষই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এলাকার অধিকাংশ পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন কৃষিকাজ। কেউ চাষ করেন ধান, কেউ সবজি, আবার কেউ নানা ধরনের ফসল ফলিয়ে সংসার চালান। কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল এমন হাজার হাজার পরিবারের কাছে সরকারি কৃষি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই এলাকার কৃষকদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘ফার্মার আইডি’ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। হাড়োয়া ব্লক কৃষি দপ্তরের এই উদ্যোগ ঘিরে এলাকার মহিলা-পুরুষ সব কৃষকরা আশার আলো দেখছেন।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে হাড়োয়া ব্লক কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে কৃষকদের নাম নথিভুক্ত করার বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস এবং কৃষি দপ্তরের কার্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তৈরি করা হচ্ছে কৃষক আইডি। হাড়োয়া ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তা চৌধুরী মনিরুল হকের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কৃষক আইডি? আসলে কৃষকদের পরিচয় ও তাঁদের জমির তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতেই কেন্দ্রের ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন বা ‘অ্যাগ্রিস্ট্যাক’-এর অধীনে চালু হয়েছে ফার্মার রেজিস্ট্রি। এর মাধ্যমে প্রত্যেক নথিভুক্ত কৃষকের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হবে। সুবিধে হবে এটাই যে, এই পরিচয়পত্র ভবিষ্যতে কৃষকদের কাছে সরকারি কৃষি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষিঋণ, সরকারি উদ্যোগে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ও অন্যান্য ফসল বিক্রি, কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি, উন্নতমানের বীজ সহ কৃষি উপকরণ সংক্রান্ত সরকারি সহায়তা, এমন একাধিক সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে কৃষকের এই আইডির মাধ্যমে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার মতো কৃষিনির্ভর এলাকায় এই উদ্যোগের গুরুত্ব যথেষ্ট রয়েছে।
কারণ, এখানকার বহু প্রান্তিক ও ছোট কৃষক সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সম্পর্কে সব সময় অবগত নন। আবার প্রয়োজনীয় নথি বা তথ্যের অভাবে অনেক সময় সরকারি পরিষেবা পেতেও সমস্যায় পড়তে হয়। ডিজিটাল কৃষক রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সেই জটিলতা কমানোর একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন কৃষি আধিকারিরা।
হাড়োয়া এডিএ অফিসে কৃষক আইডি তৈরির কাজ
হাড়োয়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বহু পরিবার কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের কাছে জমিই জীবিকার অন্যতম সম্পদ। সেই জমির উৎপাদিত ফসলই সংসার চালানোর প্রধান ভরসা এই কৃষিজীবী পরিবারের কাছে। সরকারি উদ্যোগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যাঁরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবেন, তাঁরাই এই রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নিতে পারবেন। জানা গেছে্, একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে কৃষকদের জমি ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে সরকারি কৃষি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে। বিশেষ করে হাড়োয়া এলাকার ছোট কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
প্রশাসনিক তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কৃষক আইডি তৈরি করতে ক্যাম্পে যাওয়ার সময় আধার কার্ড, আধারের সঙ্গে সংযুক্ত সচল মোবাইল ফোন ও নিজের নামে থাকা জমির খতিয়ান বা পর্চা নিয়ে যাওয়া জরুরী। আধার যাচাইয়ের জন্য মোবাইলে ওটিপি আসবে। তাই সচল মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কৃষি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, মূলত যাঁদের নিজেদের নামে জমির পর্চা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তাছাড়া বাড়িতে বসেও অনলাইনে কৃষক আইডি তৈরির আবেদন করা যাবে। পশ্চিমবঙ্গের Farmer Registry Portal-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। এ ছাড়াও নিকটবর্তী বাংলা সহায়তা কেন্দ্র (BSK), তথ্য মিত্র কেন্দ্র অথবা লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার বিক্রেতার সাহায্য নেওয়া যাবে। জানানো হয়েছে, ব্লক কৃষি দপ্তরের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে।
হাড়োয়া এডিএ অফিসে কৃষক আইডি তৈরির কাজ
প্রতিটি ক্যাম্প সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি হাড়োয়া এডিএ অফিসেও নিয়মিত কৃষক আইডি তৈরির কাজ চলবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, হাড়োয়ার কৃষকদের জন্য এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। এই কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পথ আরও সহজ করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল কৃষক পরিচয়পত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।