যোগব্যায়ামেই মিলতে পারে তামাক ছাড়ার চাবিকাঠি! সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়তে পারে ৫০%, দাবি AIIMS-এর গবেষণায়

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
যোগব্যায়ামেই মিলতে পারে তামাক ছাড়ার চাবিকাঠি! সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়তে পারে ৫০%, দাবি AIIMS-এর গবেষণায়
যোগব্যায়ামেই মিলতে পারে তামাক ছাড়ার চাবিকাঠি! সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়তে পারে ৫০%, দাবি AIIMS-এর গবেষণায়
 
নয়াদিল্লি

ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্যের নেশা ছাড়তে শুধু ওষুধ বা কাউন্সেলিং নয়, নিয়মিত যোগব্যায়ামও হতে পারে কার্যকর সহায়ক। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস), নয়াদিল্লির এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, যোগচর্চা করলে তামাক ছাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি উদ্বেগ, অবসাদ, মানসিক চাপ এবং নেশার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
 
এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে এইমসের সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ এবং সেন্টার ফর কমিউনিটি মেডিসিন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nicotine & Tobacco Research-এ।
 
গবেষকরা সাতটি র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডের মোট ৬২৯ জন অংশগ্রহণকারীর উপর হওয়া এই গবেষণার মধ্যে পাঁচটি ট্রায়ালের তথ্য মেটা-অ্যানালিসিসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত যোগব্যায়াম করেছেন, তাঁদের স্বল্পমেয়াদে তামাক থেকে বিরত থাকার সম্ভাবনা প্রচলিত চিকিৎসা বা অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল।
 
গবেষণাপত্রের লেখকদের মতে, তামাকবিরোধী কর্মসূচির সঙ্গে যোগব্যায়াম যুক্ত করলে তা একটি কার্যকর সম্পূরক পদ্ধতি হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে নেশা ছাড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে যোগব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় তামাক সেবনের কারণে। অনেকেই নেশা ছাড়তে চান, কিন্তু চিকিৎসা শুরু করার পরও পুনরায় তামাকে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই গবেষকরা জানতে চেয়েছিলেন, যোগব্যায়াম কি এই পুনরায় নেশায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে?
 
গবেষণায় হঠযোগ, ভিনিয়াসা যোগ, আয়েঙ্গার যোগ এবং প্রাণায়ামের মতো বিভিন্ন যোগপদ্ধতির প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সক্রিয় যোগাভ্যাস মানসিক চাপ ও অবসাদ কমাতে সাহায্য করে, যা তামাক থেকে দূরে থাকার ইচ্ছাশক্তি বাড়ায়। অন্যদিকে প্রাণায়াম নিকোটিনের আকাঙ্ক্ষা এবং তামাক ছাড়ার সময় দেখা দেওয়া নেতিবাচক আবেগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
 
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যোগচর্চার ফলে অংশগ্রহণকারীদের উদ্বেগ ও অবসাদ কমেছে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং মানসিক সুস্থতা বেড়েছে। এই পরিবর্তনগুলি দীর্ঘমেয়াদে নেশায় পুনরায় আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমাতে পারে বলে গবেষকদের মত।
 
বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের একটি গবেষণা, যেখানে ধূমপায়ীদের পাশাপাশি ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই ধরনের ব্যবহারকারীদের নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম কাজ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
 
তবে এইমসের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান প্রমাণ আশাব্যঞ্জক হলেও এখনও সীমিত। তাই দীর্ঘমেয়াদি এবং বৃহত্তর জনসংখ্যার উপর আরও গবেষণা প্রয়োজন, বিশেষ করে সেই সব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে, যেখানে তামাক সেবনের হার এখনও উদ্বেগজনক।
 
এইমসের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ডা. গৌতম শর্মা বলেন, “যোগব্যায়াম মন ও শরীরের সমন্বিত একটি কার্যকর পদ্ধতি। এটি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, আবেগের ভারসাম্য এবং আত্মসচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা তামাকের মতো আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত তামাক ত্যাগ কর্মসূচির পাশাপাশি যোগব্যায়াম সহজলভ্য, স্বল্প ব্যয়বহুল, সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকর সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”
 
গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে যোগব্যায়ামকে বিশ্বজুড়ে তামাকবিরোধী কর্মসূচির একটি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।