বস্তির দোরগোড়ায় এবার চলন্ত হাসপাতাল, কলকাতায় চালু হচ্ছে আরও ১০০ মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট
কলকাতা
শহরের ঘিঞ্জি ও বস্তি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (SUDA) উদ্যোগে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে চালু হতে চলেছে আরও ১০০টি আধুনিক মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট। স্বাস্থ্য দপ্তরের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ। নতুন ইউনিটগুলি চালু হলে শহরের বস্তি এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবার পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
এই মোবাইল মেডিক্যাল ভ্যানগুলিকে কার্যত একটি ছোট হাসপাতালের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটে থাকছে সেমি-অটো অ্যানালাইজার, সেল কাউন্টার, ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি এবং পোর্টেবল হ্যান্ড-হেল্ড এক্স-রে মেশিন। ফলে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল রোগের প্রাথমিক নির্ণয়ও করা সম্ভব হবে ভ্যানের মধ্যেই।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিটে প্রায় ৩৫ ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা, রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ণয়, ম্যালেরিয়া শনাক্তকরণ, গর্ভধারণ পরীক্ষা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আল্ট্রাসোনোগ্রাফির সুবিধাও থাকবে, যা মাতৃস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়াও, কোনও রোগীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের প্রয়োজন হলে তাঁকে আর দূরের হাসপাতালে ছুটতে হবে না। প্রতিটি ইউনিটে থাকা টেলি-মেডিসিন পরিষেবার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, শহরের বহু বস্তি এলাকার বাসিন্দা এখনও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাঁদের কাছে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। অন্য এক চিকিৎসকের মতে, বিশেষ করে বস্তি এলাকার গর্ভবতী মহিলাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালু হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে শহরের প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য হবে বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।