বুকে প্রবল চাপ থেকে অ্যাসফিক্সিয়া, কলকাতার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু: প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
কলকাতা
কলকাতার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। মৃতদের অধিকাংশের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ বুকে প্রবল চাপের ফলে শ্বাসরোধ। রবিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছেন।
ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক জনের শরীরে গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতির পাশাপাশি মাথাতেও আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। কয়েক জনের হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ এবং শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্নও মিলেছে।
প্রাথমিক রিপোর্টে অধিকাংশ মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বুকে প্রবল চাপের ফলে সৃষ্ট ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া (Traumatic Asphyxia)। ভিড়ের চাপে বুক অতিরিক্ত সংকুচিত হয়ে পড়লে ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হতে পারে না। এর ফলে শ্বাস নিতে তীব্র সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
স্বাস্থ্য দফতরের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে সাত জনের শরীরে শ্বাসরোধের পাশাপাশি একাধিক অঙ্গের ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অন্তত ছ’জনের ক্ষেত্রে পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার চিহ্ন মিলেছে। ঠাসাঠাসি ভিড়ের মধ্যে প্রবল চাপের কারণেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কলকাতার ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ১৮ জনের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। বাকি এক জনের ময়নাতদন্ত হয়েছে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ফেটে যাওয়া এবং রক্তক্ষরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে ‘ভিসেরাল রাপচার অ্যান্ড হেমারেজ’ (Visceral Rupture and Haemorrhage) বলা হয়। গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাত ও রক্তক্ষরণও কয়েক জনের মৃত্যুর কারণ বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।
কলকাতার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য ভিড়ের চাপে সৃষ্ট ভয়াবহ শারীরিক আঘাতের দিকটি সামনে আনল। তবে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে চূড়ান্ত রিপোর্টের গুরুত্ব থাকবে।