থামল তুলির টান, প্রয়াত বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী, শোকস্তব্ধ শিল্প ও সংস্কৃতি মহল
কলকাতা:
প্রয়াত বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রবিবার, ২৫ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতি জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। দেশভাগের পর তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে আসে। পরবর্তীকালে গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট থেকে শিল্পকলার শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন প্যারিসেও। নিজস্ব শিল্পশৈলী ও রেখার অভিনব ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলায় স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
যোগেন চৌধুরীর ছবিতে মানুষের শরীরের ভঙ্গি, মনের অনুভূতি, অসহায়তা, শহুরে জীবনের একাকিত্ব এবং সমাজের নানা অসংগতি বিশেষভাবে ফুটে উঠত। রেখা ও আড়াআড়ি দাগের মাধ্যমে মানবদেহের অভিব্যক্তি তুলে ধরার অসামান্য দক্ষতার জন্য তিনি বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তাঁর শিল্পকর্মে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনও লক্ষণীয়।
শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পদ্মভূষণ-সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হন। ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রদান করে। শিল্পচর্চার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ রাজনৈতিক ও শিল্পীমহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বাংলা ও ভারতের গর্ব বলে উল্লেখ করে তাঁর প্রয়াণকে শিল্পজগতের অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের অবসান হল। তাঁর সৃষ্টি ও শিল্পভাষা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।