তসলিমার ‘লজ্জা’ এবার তথ্যচিত্রে, শমীক ভট্টাচার্যের হাতে টিজার পোস্টার তুলে দিলেন নির্মাতা সৌম্য সেনগুপ্ত

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে নির্মাতা ও গবেষক সৌম্য সেনগুপ্ত
শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে নির্মাতা ও গবেষক সৌম্য সেনগুপ্ত
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ  শমীক ভট্টাচার্যর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন তরুণ তথ্যচিত্র নির্মাতা ও গবেষক সৌম্য সেনগুপ্ত। সেই সাক্ষাতে তিনি তুলে দিলেন তাঁর নির্মীয়মাণ তথ্যচিত্র “Lajja, Shame of a Nation”-এর টিজার পোস্টার। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখিকা তসলিমা নাসরিনের জীবন, নির্বাসন, বিতর্ক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লড়াইকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে এই তথ্যচিত্র। নির্মাতার দাবি, চলতি বছরের শেষের দিকে মুক্তি পেতে পারে ছবিটি।

সৌম্য সেনগুপ্ত মূলত বাংলা ভাষা, সমাজ-রাজনীতি এবং ইতিহাসভিত্তিক বিষয় নিয়ে কাজ করা এক স্বাধীন তথ্যচিত্র নির্মাতা। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিসরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে ভিডিও ও ডকুমেন্টারি নির্মাণ করে আসছেন। তাঁর নতুন তথ্যচিত্র “Lajja, Shame of a Nation” ইতিমধ্যেই বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক মহলে আগ্রহ তৈরি করেছে। সৌম্যর বক্তব্য অনুযায়ী, এই তথ্যচিত্র কোনও কল্পনানির্ভর জীবনী নয়; বরং তসলিমা নাসরিনের বাস্তব জীবনসংগ্রাম, নির্বাসন, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং বাকস্বাধীনতার প্রশ্নকে তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হবে।
 
তথ্যচিত্রটির নাম নেওয়া হয়েছে তসলিমা নাসরিনের বহুল আলোচিত উপন্যাস “লজ্জা” থেকে। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে। বইটি প্রকাশের পর বাংলাদেশে প্রবল বিতর্ক শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। একইসঙ্গে মৌলবাদী সংগঠনগুলির তরফে লেখিকার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি হয়। পরে তাঁকে দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হতে হয়। Lajja উপন্যাসটি প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনায় আসে। 
 
বর্তমানে দিল্লিতে বসবাসরত তসলিমা নাসরিন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কলকাতায় ফেরার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর থেকে এখনও শহরে স্থায়ীভাবে ফিরতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আবেগের সম্পর্কের কারণেই কলকাতাকে তিনি নিজের “সাংস্কৃতিক বাড়ি” বলে মনে করেন। 
 
অন্যদিকে  শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের পোস্টার তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধিতা এবং বাঙালি বৌদ্ধিক পরিসরে নতুন বিতর্কেরও ইঙ্গিত বহন করছে।
 
এখনও পর্যন্ত তথ্যচিত্রটির পূর্ণাঙ্গ ট্রেলার প্রকাশিত হয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলের মতে, “Lajja, Shame of a Nation” শুধু একজন লেখিকার জীবনের দলিল হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় বাকস্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক রাজনীতির প্রশ্নকেও সামনে আনবে।