বাঁকুড়ার ছোট্ট গ্রাম থেকে সোজা দিল্লির জাতীয় মঞ্চে! যোগীয়া দাসের গানে এবার গর্বিত হবে গোটা বাংলা
Story by Tarun Nandi | Posted by Aparna Das • 1 d ago
বাঁকুড়ার ছোট্ট গ্রাম থেকে সোজা দিল্লির জাতীয় মঞ্চে! যোগীয়া দাসের গানে এবার গর্বিত হবে গোটা বাংলা
তরুণ নন্দী / কলকাতা
বাঁকুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দিল্লির জাতীয় মঞ্চে যাচ্ছেন যোগীয়া দাস। সুরের জাদুতে বাংলার নাম উজ্জ্বল করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান। আজ ১৩ অক্টোবর দিল্লিতে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল আইকন অ্যাওয়ার্ড’-এ নিজের কণ্ঠের সুর ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কারণ, জাতীয় মঞ্চেই গান পরিবেশনের বিশেষ সুযোগ পেয়েছেন বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির রাধামাধবপুর গ্রামের মেয়ে যোগীয়া। তাঁর এই প্রাপ্তি ঘিরে আশায় বুক বাঁধছে পরিবার থেকে গোটা বাঁকুড়াবাসী। আসলে যোগীয়ার স্বপ্নটা ছোট ছিল না, আর তাই সেই স্বপ্নের পথে থেমে থাকেনি তাঁর সাধনাও।
পরিবারসূত্রে খবর, ছোটবেলা থেকেই গান ছিল যোগীয়ার জীবনের প্রথম পছন্দ। সংগীতের প্রতি এই ভালোবাসা তাঁকে নিয়ে গেছে সাধনার জায়গায়। আর যোগীয়ার এই সংগীতযাত্রায় সবচেয়ে বড় পথপ্রদর্শক হলেন তাঁর বাবা পরেশ চন্দ্র দাস। নিজে সংগীত শিক্ষক হওয়ায় মেয়ের প্রতিভাকে চেনার পাশাপাশি তাঁকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি।
ছোট থেকেই নিয়ম করে সংগীত চর্চা করে গেছেন যোগীয়া। ধ্রুপদী সংগীতে তাঁর বিশেষ চর্চায় তাকে আজ এই জায়গায় এনে দিয়েছে। শান্ত স্বভাবের মেয়েটিকে নিয়ে তাই গর্বের সীমা নেই প্রতিবেশীদের মধ্যেও। এলাকা তো বটেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যোগীয়ায় প্রতিভার কদর মিলেছে। স্বীকৃতি হিসাবে তাঁর বাড়িতে রাখা পুরস্কারগুলো বুঝিয়ে দেয় এই মেয়ের প্রতিভার কথা।
বাবার কথা মেনে তালিম নিয়ে নিজের অধ্যবসায়কে সঙ্গী করেই সাফল্যের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন যোগীয়া। বলা ভালো, তাঁর সেই সাধনার পথ তাঁকে এক নতুন মাইলফলকে পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে যোগীয়া রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টসের ভোকাল মিউজিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। সংগীতের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকে আরও বিকোশিত করতে জাতীয় মঞ্চে গান পরিবেশনের এই সুযোগ তাঁর কেরিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
যোগীয়া দাস
ইতিমধ্যেই নানা প্ল্যাটফর্মে অংশ নিয়ে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন যোগীয়া। তবে দিল্লির এই মঞ্চ বৃহত্তর পরিসরে নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরার এক মূল্যবান সুযোগ। এমন মঞ্চে নিজের প্রতিভায় শ্রোতাদের মন জয় করাই এখন বাঁকুড়ার যোগীয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বাবার আশীর্বাদ নিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভর করেই রাজধানীতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যোগীয়া। ন্যাশনাল আইকন অ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির কথা সামনে রেখে পরিবারের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। মেয়ের এই সাফল্যে রীতিমত উচ্ছ্বসিত পরিবার-পরিজনেরা।
যোগীয়ার এই সংগীত যাত্রা বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীর কাছে তাঁর পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। কারণ সুযোগ পেলে গ্রামের মাটিতেও জন্ম নিতে পারে বড় স্বপ্নের বীজ। রাধামাধবপুর থেকে যোগীয়ার এই যাত্রা নিঃসন্দেহে বাঁকুড়ার কাছে গর্বের।
যোগীয়া দাস
আগামী দিনে আরও বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভা তুলে ধরুক তেমনটাই প্রত্যাশা করছে বাংলার সংগীতমহল। কারণ, কিছু কিছু স্বপ্নের সাফল্যে গর্বিত হয় একটা পরিবার, একটা জেলা, এমনকী গোটা বাংলা। যোগীয়ার মতো এই প্রত্যন্ত গ্রামের শিল্পীদের সুরের সঙ্গে মিশে রয়েছে তার শিকড়ের টান আর আকাশছোঁয়ার অদম্য প্রত্যয়।