কলকাতা:
রাজনীতির মঞ্চের পর এবার নাটকের মঞ্চে দেখা গেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারকে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর চরিত্রে অভিনয় করলেন তিনি। ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘কেশরী হত্যা’ নাটকে এই ভূমিকায় দেখা গিয়েছে সুকান্তকে। রবিবার রাতে কলকাতার রবীন্দ্র সদনে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি। শুধু অভিনয়ই নয়, নাটকের কথক হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
নাটকটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর পদত্যাগ, ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্কের নানা দিক উঠে এসেছে নাটকের কাহিনিতে।
সাধারণত রাজনৈতিক মঞ্চেই বেশি দেখা যায় সুকান্ত মজুমদারকে। তবে এবার বাজপেয়ীর চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। সুকান্ত বলেন, তাঁকে এই চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক বাঙালির মধ্যেই অভিনয়ের একটা সুপ্ত ইচ্ছা থাকে। সেই কারণেই তিনি প্রস্তাবে রাজি হন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, সরকারি কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই নাটকের মহড়া দিয়েছেন তিনি। এমনকী, অন্য রাজ্য সফর সেরে ফেরার পরেও মহড়ায় অংশ নিয়েছেন।
নাটকের আয়োজকদের দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও মৃত্যুর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই তাঁদের উদ্দেশ্য। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে তাঁর আন্দোলন, সেই সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতিও নাটকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এর আগে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে বিভিন্ন নাটকে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরা হলেও এই বিষয়গুলি একসঙ্গে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়নি।
নাটকটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুকান্তও। দর্শকদের হাততালিই নাটকটির সাফল্য ও গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আরও বেশি করে নাটকটি মঞ্চস্থ করার পাশাপাশি বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশাও প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, নাটকে অভিনয় সুকান্তর কাছে একেবারে নতুন নয়। ছাত্রজীবনেও তিনি থিয়েটারে অভিনয় করেছিলেন, যদিও নিয়মিতভাবে নয়।