জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে এবার দেখা মিলবে বিরল লজ্জাবতী বানরের

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 22 h ago
জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে এবার দেখা মিলবে বিরল লজ্জাবতী বানরের
জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে এবার দেখা মিলবে বিরল লজ্জাবতী বানরের
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

 জঙ্গলের নীরব বাসিন্দা। চলাফেরায় ধীর, স্বভাবে শান্ত। অথচ আত্মরক্ষার কৌশলে বেশ ভয়ংকর। বিরল সেই লজ্জাবতী বানরের এবার দেখা মিলবে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে পার্কে নিয়ে আসা হয়েছে। আপাতত তাদের রাখা হয়েছে সুরক্ষিত এনক্লোজারে। পশু চিকিৎসক এবং বনকর্মীদের তত্ত্বাবধানে চলছে পরিচর্যা।
 

গাছের ডালেই জীবনের অধিকাংশ সময় কাটে লজ্জাবতী বানরের। অত্যন্ত ধীর এবং সতর্ক গতিতে এক ডাল থেকে অন্য ডালে চলাফেরা করে এই নিশাচর প্রাণী। ধূসর, বাদামি কিংবা হলুদাভ লোমে ঢাকা শরীর। লেজও প্রায় নেই বললেই চলে। চেহারা এবং স্বভাবের কারণে দূর থেকে নিরীহ মনে হলেও বিপদ বুঝলে আত্মরক্ষায় বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে তারা।
 
লজ্জাবতী বানরের অন্যতম আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য তাদের বিষাক্ত কামড়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কনুইয়ের কাছাকাছি থাকা বিশেষ গ্রন্থি থেকে এক ধরনের তরল নিঃসৃত হয়। বিপদের আশঙ্কা হলে সেই তরল মুখের লালার সঙ্গে মিশিয়ে দাঁতের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের শরীরে প্রবেশ করাতে পারে তারা। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই জঙ্গলে লজ্জাবতী বানরকে অনেক সময় ‘বিষাক্ত প্রহরী’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
 
মূলত উত্তর-পূর্ব ভারত, ভুটান, মায়ানমার-সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বনাঞ্চলে এই প্রাণীর দেখা মেলে। ঘন জঙ্গল ও গাছপালায় সমৃদ্ধ পরিবেশই তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান। কিন্তু বনভূমি ধ্বংস, চোরাশিকার এবং অবৈধ পাচারের মতো নানা কারণে এই বিরল প্রাণীর অস্তিত্ব ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে।এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরগুলিকে নিরাপদ পরিবেশে রাখা এবং তাদের পরিচর্যার পাশাপাশি সংরক্ষণের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বনকর্তারা। ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে তাদের নিয়ে আসার মূল লক্ষ্যও সেই সংরক্ষণ প্রচেষ্টারই অংশ।
 
তবে কবে থেকে পর্যটকদের জন্য লজ্জাবতী বানরগুলিকে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে, সেই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। একই সঙ্গে কতগুলি লজ্জাবতী বানরকে উদ্ধার করে পার্কে আনা হয়েছে, সে বিষয়েও বন দপ্তরের তরফে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।তবে এই বিরল প্রাণীর আগমন ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের আকর্ষণ যে আরও বাড়াবে, তা বলাই যায়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সামনে লজ্জাবতী বানরের জীবনযাপন ও তাদের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি হবে।


শেহতীয়া খবৰ