অমৃতসরে LGBTQ ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গুলি করে খুন, দায় স্বীকারের পোস্ট ঘিরে তদন্ত

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 3 h ago
অমৃতসরে LGBTQ ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গুলি করে খুন, দায় স্বীকারের পোস্ট ঘিরে তদন্ত
অমৃতসরে LGBTQ ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে গুলি করে খুন, দায় স্বীকারের পোস্ট ঘিরে তদন্ত
 
অমৃতসর

পঞ্জাবের অন্যতম পরিচিত LGBTQ ব্যক্তিত্ব, ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট ম্যাড সান্ধুকে গুলি করে খুন করল দুই বাইক আরোহী। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ অমৃতসরে রাস্তায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা ম্যাড সান্ধুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
 
পুলিশ জানিয়েছে, দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বাইকে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ সিরিভেনেলা বলেন, “শনিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর উপর গুলি চালায়।”
 
ঘটনার পর ‘গোল্ডি ধিল্লোঁ’ নামে একটি ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে হত্যার দায় স্বীকার করে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ম্যাড সান্ধু “পঞ্জাবকে নষ্ট করেছিলেন”। তবে পোস্টটি সত্যিই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
 
ম্যাড সান্ধুর আসল নাম মধুসূদন। মেকআপ, সিনেমা, ফ্যাশন, লিঙ্গ-পরিচয় এবং LGBTQ অধিকার নিয়ে বিভিন্ন পডকাস্টে নিয়মিত কথা বলতেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমকামী পরিচয়ের কারণে তাঁকে প্রায়ই হোমোফোবিক ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হত। তবে প্রকাশ্যে নিজের পরিচয় নিয়ে কখনও লুকোছাপা করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, “ঈশ্বর আমাকে এভাবেই তৈরি করেছেন।”
 
ফ্যাশন দুনিয়ায় স্টাইলিস্ট ও সহকারী কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ম্যাড সান্ধু। পঞ্জাব ও মুম্বইয়ের চলচ্চিত্র জগতেও কাজ করেছেন তিনি। পরে ইনস্টাগ্রাম রিল ও ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা পান। বিলাসবহুল সাজসজ্জা, লাইফস্টাইল, সামাজিক রীতি-নীতি, LGBTQ গ্রহণযোগ্যতা ও পপ কালচার নিয়ে তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। কয়েকটি পঞ্জাবি ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি, যার মধ্যে ‘Oye Bhole Oye’ সিরিজ উল্লেখযোগ্য।
 
ম্যাড সান্ধুর খুনের ঘটনায় প্রায় এক বছর আগে বাথিন্ডায় ঘটে যাওয়া আরেক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার খুনের স্মৃতি ফিরেছে। ২০২৫ সালের জুনে ইনফ্লুয়েন্সার কাঞ্চন কুমারি ওরফে ‘কমল কৌর ভাবি’কে খুন করা হয়। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, পেমেন্টের বিনিময়ে একটি ব্র্যান্ড প্রোমোশনের কথা বলে তাঁকে লুধিয়ানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় র‍্যাডিক্যাল নিহাং শিখ ভিজিল্যান্ট অমৃতপাল সিং মেহরন এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ওঠে।
 
পুলিশের দাবি, কমল কৌরের ইনস্টাগ্রাম কনটেন্টকে ‘অনৈতিক’ ও ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে নৈতিকতার নামে টার্গেট করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রচলিত শিখ মহিলা পদবি ‘কৌর’ সরানোর দাবিও করা হয়েছিল। পরে মেহরন একটি ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যে খুনের সাফাই দেয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পালিয়ে যায়। পরে তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাথিন্ডার একটি আদালত ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ গঠন করেছে।
 
এদিকে, ম্যাড সান্ধু খুনের কয়েক ঘণ্টা আগেই লুধিয়ানার মুল্লানপুরে গাড়িতে গুলি চালিয়ে এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে খানজারওয়াল গ্রাম থেকে মাজরির দিকে যাচ্ছিল একটি সাদা Hyundai i20। গাড়িতে ছিলেন দুই যুবক। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, Hyundai Verna-য় থাকা কয়েকজন ওই গাড়িটিকে অনুসরণ করে আচমকাই গুলি চালায়।
 
গুলিতে গুরুতর জখম হন ভুন্দরি গ্রামের বাসিন্দা লাডি খান। একাধিক গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গাড়িতে থাকা অন্য ব্যক্তি, মাজরির রোহিত ওরফে বিল্লা, গুলি চলার সময় পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
 
এই হামলার নেপথ্যে কী কারণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরনো শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিবাদ কিংবা গ্যাং-সংঘাত, একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


শেহতীয়া খবৰ