উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, জন্মদিনে উৎসব-সঙ্গীত, মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা
কলকাতা:
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তমকুমারের জন্মবার্ষিকী এবার থেকে উৎসব ও সঙ্গীতের আবহে উদযাপন করা হবে। অন্যদিকে, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে শ্রদ্ধা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শনিবার এই ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মৃত্যুবার্ষিকী শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হবে। আর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে আনন্দ ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে, যথাযথ সম্মান জানিয়ে।”
বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মহানায়ক’ হিসেবে পরিচিত উত্তমকুমার ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সিনেমার অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অটুট। তাঁর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে গত মাসেই রাজ্যজুড়ে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
শনিবারের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন বাণীচক্র। সল্টলেকের ইজেডসিসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল রাজ্যস্তরের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এক মাস পরের বিশেষ আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই উত্তমকুমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাংস্কৃতিক জগতে একমাত্র ‘মহানায়ক’ হলেন উত্তমকুমার। তাঁর কথায়, “সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক জনই মহানায়ক, তিনি উত্তমকুমার।”
জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলার জন্য আয়োজক ও শিল্পীদের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রতিভা তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবীণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, পরিচালক সন্দীপ রায়, অভিনেতা হরাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ বিশিষ্ট শিল্পীদের বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “মিঠুনদা থেকে সন্দীপ রায়, হারদা, প্রসেনজিৎদা, জিৎ এবং ঋতুপর্ণা—প্রত্যেকেই তাঁদের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করেছেন। বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।”
ভবিষ্যতে বাণীচক্র এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর যৌথভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নিতে পারে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।
বাংলা সিনেমা, সঙ্গীত ও সংস্কৃতি জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের এই অনুষ্ঠান তাঁর দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক প্রভাবকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই প্রয়াত হন উত্তমকুমার। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের সঙ্গে তাঁর নাম আজও অবিচ্ছেদ্য। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর কালজয়ী জুটি বাঙালির জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে আজও বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে।