তরুণ নন্দী / কলকাতা
সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদী যেন নদীপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের নাম। স্থানীয়রা জানালেন, কয়েক মাসের ব্যবধানে হিঙ্গলগঞ্জের হেমনগর এলাকায় ফের নদীগর্ভে তলিয়ে গেল প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট নদীবাঁধ। আর এইভাবে বারবার বাঁধে ধসে্র জেরে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে নদীপাড়ের হাজার হাজার মানুষের।
এতদিনের নিজের ভিটেমাটি, চাষের জমি হঠাৎ করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের। আর সেই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে নদীপাড়ের হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষদের। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃতির রোষ তো আছেই, কিন্তু মানুষের তৈরি গাফিলতিই এই দুর্ভোগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাত্র কয়েক মাস আগেই ঠিক এই জায়গা জুড়ে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছিল। সমস্যা সমাধানে সেই সময় সরকারি স্তরে স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণের অনুমোদন মিলেছিল। বাস্তবে তা রূপায়িত হয়নি। বলা ভালো কংক্রীটের বাঁধ নির্মান হয়নি। অভিযোগ, অনুমোদনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্রেফ বাঁশ, বস্তা আর দরমা দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে মেরামতির কাজ করে সামাল দিয়েছে প্রশাসনের কর্তারা। আর নিম্নমানের এই কাজ আর দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের মত সাধারণ মানুষদের।
বর্ষা আসার আগে এই নদী ভাঙন আটকানো না গেলে আগামী দিনে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও থাকবে না বলে ক্ষোভ উগরে দিলেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। অতীতে স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধের পরিবর্তে কেন এই অস্থায়ী বাঁধ নির্মানের এই লুকোচুরি খেলা হলো, তা নিয়ে এখন প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা।
বলা ভালো, সুন্দরবনের গরীব মানুষগুলোর এই বুকফাটা কান্নায় কোনো ভেদাভেদ নেই। রায়মঙ্গলের আগ্রাসনে আজ হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ একজোট হয়ে বাঁচার লড়াইয়ের পথ খুঁজছেন। জানা গেছে, প্রায় ১০০-১৫০ ফুট নদীবাঁধের বেহাল অবস্থা। বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই বড়সড় বন্যার আশঙ্কা করতে শুরু করেছেন নদীপাড়ের কয়েকশো হিন্দু ও মুসলিম পরিবার।
সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদী
সমস্যার কথা শুনে হেমনগর কোস্টাল থানার পুলিশ এবং বিডিও দেবদাস গাঙ্গুলীকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন হিঙ্গলগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়িকা রেখা পাত্র। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বিধায়ক কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। রেখা পাত্র জানান, এই চরম সংকটের বিষয়টি আমি নিজের উদ্যোগে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনব। দ্রুত যাতে স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করা হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাব।
বহুবছর ধরে এই অসহায় মানুষগুলো ভিটেমাটি বাঁচাতে শুধুই পেয়েছে প্রতিশ্রুতি। তাই এবার রাজ্যে পালাবদলের পর এই মানুষগুলো আর কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বা অস্থায়ী জোড়াতালি চান না। তাঁরা চান অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হোক স্থায়ী কংক্রিটের বাঁধ। আদৌ কি মিলবে স্থায়ী সমাধান? উত্তর হয়তো দেবে সময়।