নূরুল হক / আগরতলা
আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কুরবানীর ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন পশু কুরবানী নিয়ে আলোচনা সমালোচনা তখনই সম্প্রীতির এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল ত্রিপুরার বক্সনগরে। সম্প্রীতির বাতাবরণের মধ্যেই ত্রিপুরায় চলছে ঈদের পশু বেচাকেনা।
বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা গুলিতে বিশেষ পশুহাট আয়োজনের মাধ্যমে জমজমাট ঈদের প্রস্তুতি নজরে পড়ছে। এসব ঈদের বাজারে মুসলিমদের পাশাপাশি মিলেমিশে এক হয়ে যাচ্ছেন পশু ক্রেতা বিক্রেতা। ঈদের বাজারে মিলন হচ্ছে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি জনজাতি অংশের নাগরিকদের।
রবিবার এমনই একটি পশু বাজার দেখা গেল বক্সনগরে। বিজেপি বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের বিশেষ উদ্যোগে ঈদের চার দিন আগে এই পশুহাট ব্যাপক জমজমাট হয়ে উঠে। বাজার পরিচালন কমিটিতে মুসলিমদের থেকে বেশি সংখ্যায় ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। একইভাবে জাতি উপজাতি অংশের মানুষ এই পশু বাজারে অংশ নেন।
বক্সনগর দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে রবিবার সকাল ৭টা থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুরবানীর পশু নিয়ে হাজির হন বিক্রেতারা। হিন্দু মুসলিম জাতি জনজাতি সমস্ত অংশের বিক্রেতা কুরবানীর বাজারে গরু ছাগল বিক্রি করতে আসেন।
ত্রিপুরার বাক্সনগরে জমজমাট ঈদের পশু বাজার
মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে তৈরি হয় পশু হাট পরিচালন কমিটির জন্য অফিস কক্ষ। সামনে বিশাল মাঠে বাঁশ দিয়ে লাইন এবং খুঁটি বসানো হয় পশু বাঁধার জন্য। ক্রেতা বিক্রেতার সুবিধার্থে রাখা হয় রয়েছে প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ব্যবস্থা। পুরো মাঠকে সাজানো হয় বিভিন্ন রঙের সুসজ্জিত পতাকায়। সকাল দশটার মধ্যেই বাজার জমজমাট হয়ে উঠে। হাজারো ক্রেতা বিক্রেতার ভিড় জমে।
ক্রেতা বিক্রেতা ছাড়াও ঈদের পশু বাজার দেখতে ভিড় জমান উৎসাহিতের একাংশ। এদিন বাজারে ৪০ থেকে ৭০-৮০ হাজার টাকার গরু বেশি পরিমাণে বিক্রি হয়েছে। তবে দিন সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ত্রিপুরার বাক্সনগরে জমজমাট ঈদের পশু বাজার
এই পশু বাজার নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন বলেন ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আল্লাহর নামে কুরবানী করেন। এই কুরবানী শুধু একটি পশুর নয়। কুরবানী মানুষের নিজের মনের পশুত্বের। সেই পশুত্বকে জয় করতে হয় মনের ভালোবাসা দিয়ে। বিধায়ক বলেন ত্রিপুরা এবং আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সেই ভালোবাসা রয়েছে।
মানুষ একেও অন্যের উৎসবে শামিল হয় সমান ভাবে আনন্দ উপভোগ করে। আবার একে অন্যের ধর্মের প্রতি সমানভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকে। বক্সনগর ঈদের বাজার রাজ্যের মানুষের ভাতৃত্ববোধ এবং সম্প্রীতির পরিচয় বলে বিধায়ক দাবি করেন। এদিনের এই ঈদের বাজার ঐতিহাসিক বলে তিনি দাবি করেন বাজারে দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।