মাধ্যমিকে রাজ্যসেরা তালিকায় কৃষ্ণনগরের তামিম, দশম স্থান পেয়ে নজর কাড়ল শিক্ষক পরিবারের মেধাবী ছাত্র

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
বাবা মায়ের সঙ্গে তামিম
বাবা মায়ের সঙ্গে তামিম

শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজ্যের মেধাতালিকায় নিজের জায়গা নিশ্চিত করে নদিয়ার কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র তামিম মন্ডল এখন জেলার গর্ব। ৭০০-র মধ্যে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে সে। এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, উচ্ছ্বসিত স্কুল, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং গোটা এলাকার মানুষ।
 
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই কৃষ্ণনগরে তামিমদের বাড়িতে যেন উৎসবের আবহ। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষকরা সকলেই শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাকে। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে তামিমের মূল মন্ত্র ছিল নিয়মিত পড়াশোনা এবং বিষয়কে ভালোবেসে শেখা। তার কথায়, পড়ার জন্য ঘড়ি ধরে সময় বেঁধে বসা নয়, বরং প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
 
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তামিমের। সব বিষয়েই সমান দক্ষতা থাকলেও বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলির প্রতি তার বিশেষ টান রয়েছে। বিশেষ করে পদার্থবিদ্যা তার সবচেয়ে প্রিয়। পাশাপাশি গণিতেও তার আগ্রহ প্রবল। জটিল অঙ্ক কিংবা বিজ্ঞানের ধারণাভিত্তিক বিষয় তাকে বরাবরই বেশি আকৃষ্ট করেছে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও রয়েছে বড় স্বপ্ন। তামিম জানিয়েছে, সে ডাক্তার হতে চায়। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এমবিবিএস পড়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। তবে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ সে। নিজের মেধা ও দক্ষতার আরও বিস্তৃত মূল্যায়নের জন্য জেইই পরীক্ষাতেও বসতে চায় তামিম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি— দুই ক্ষেত্রেই নিজের সক্ষমতা যাচাই করাই তার লক্ষ্য।
 
শুধু পড়াশোনাতেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ভারসাম্য বজায় রাখতে পছন্দ করে এই কৃতী ছাত্র। পড়ার ফাঁকে খেলাধুলা, বিশেষ করে ফুটবল তার খুব প্রিয়। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোও তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তামিমের মতে, মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজ করাও জরুরি।তামিমের এই সাফল্যের পিছনে তার পরিবার বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বাবা কৃষ্ণনগর হাই স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক এবং মা দত্তপুলিয়ার একটি বিদ্যালয়ের অঙ্ক শিক্ষিকা। শিক্ষক পরিবারে বড় হওয়ার ফলে ছোট থেকেই বাড়িতে পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে সে। বাবা-মায়ের দিকনির্দেশনা, নিয়মিত উৎসাহ এবং শিক্ষকদের সহযোগিতাই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছে তামিম।
 
ছেলের এই কৃতিত্বে গর্বিত তার বাবা-মা। স্কুল কর্তৃপক্ষও তামিমের ফলাফলে অত্যন্ত আনন্দিত। তাদের আশা, আগামী দিনেও তামিম আরও বড় সাফল্য অর্জন করে জেলার পাশাপাশি রাজ্যের মুখ আরও উজ্জ্বল করবে। কৃষ্ণনগরের এই মেধাবী ছাত্র এখন বহু পরীক্ষার্থীর কাছেই অনুপ্রেরণার নাম।