বাংলার ২৫শে বৈশাখে আরও এক রেকর্ড পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁতারু আরফিন জাবি পক প্রণালী অতিক্রম
শান্তিপ্রিয় রায় চৌধুরী
২৫শে বৈশাখ বাংলার মানুষের জন্য নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্ত শুরু করার সময়ে বাংলার দাপুটে সোনার কন্যা আরফিন রাজ্য ও বিশ্ববাসীর সামনে এক নিজের দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনেই বাংলার সাঁতার প্রেমীদের কাছে এলো সুখবর। পশ্চিম মেদিনীপুরের এবারের 'ইলেকশান আইকন' আরফিন জাবি ৯ মে শ্রীলংকা ভারতের মাঝামাঝি ভারত মহাসাগরের পক প্রণালী (palk strait) অতিক্রম করলেন। এই চ্যানেলটি অতিক্রম তিনি সময় নিলেন ৭ ঘন্টা ৫ মিনিট। শনিবার ভোর ৩:৩০ মিনিটে তার অভিযান শুরু হয় শ্রীলংকার থালাইমানার থেকে। আর শেষ হয় ভারতের ধনুশকোডিতে। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই ১৩ ঘণ্টা ১৩ মিনিট সময় নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছিলেন আরফিন জাবি।
আরফিন জাবি
ইংলিশ চ্যানেল জয়ী আরফিন টেলিফোনে আওয়াজ দ্য ভয়েসকে জানান, "এই চ্যানেল অতিক্রম করার কাজটা সহজ ছিল না। যাত্রা পথে ছিল অনেক বাধা। যেমন ছিল প্রবল স্রোত, তেমনি ছিল তাপমাত্রারও ওঠানামা। তাছাড়া জেলি ফিসের আতঙ্কওতো ছিল। সে সব মোকাবেলা করেই পক প্রণালী অতিক্রম করলাম। দারুন ভালো লাগছে।"
আরফিন জাবির আরো জানান,সামনের লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের ক্যাটরিনা চ্যানেল অতিক্রম করার। আর এই চ্যানেল তিনি অতিক্রম করতে চান এই বছরেই। তার জন্য সব প্রস্তুতি চলছে। ইংলিশ চ্যানেল তিনি অতিক্রম করেছিলেন সম্পূর্ণ নিজের খরচে। খরচ হয়েছিল ৩০ লক্ষ টাকা। টাকাটা এসেছিল বাবার ব্যবসায় পর জমানো টাকা থেকে।
এবার অবশ্য তা হয়নি। আরফিনের এই চ্যানেলের খরচ এবার হয়েছে ৬ লক্ষ টাকারও বেশি। এই টাকাটা সবটাই বহন করছে তারই শহরের মেদিনীপুর আই রোটারি হসপিটাল।
আফরিন জাবির প্রশিক্ষক বিশ্বজিৎ দে চৌধুরী। জাবির অসামান্য সাফল্যের পর এই প্রখ্যাত সাঁতার প্রশিক্ষক বিশ্বজিৎ দে চৌধুরী আফরিনের লড়াই ও জেদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, "জাবির অদম্য জেদ, মনোবল,কঠিন পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তার জন্য এই জায়গায় এসেছে।" তিনি জানিয়েছেন, ছোট শহর থেকে উঠে এসেও বিশ্বমানের সাঁতারুদের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো জেদ আফরিনের আছে।
বিশ্বজিৎবাবু মনে করেন, আফরিনের প্রতিভা এবং প্রশিক্ষণের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য এনে দেবে, বিশেষ করে ওপেন ওয়াটার ম্যারাথন সুইমিংয়ে। আফরিন জাবির আর এক কোচ বাবুন নাথ তার এই সাফল্যে মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এই জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন এবং গর্ব প্রকাশ করেন।
তার শহরের মেদিনীপুর আই রোটারি হসপিটালের, যারা তাকে এই অভিযানে আর্থিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেছিল সেই হসপিটালের সদস্যরাও আরফিনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
আফরিনের ইংলিশ চ্যানেল এবং পক প্রণালী অতিক্রমের এই অসামান্য সাফল্যে তাঁর বাবা পিয়ার আলি ও মা সাবিনা পারভিন এবং পরিবার অত্যন্ত গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত। আফরিন নিজে জানিয়েছেন, তাঁর এই দুঃসাহসিক যাত্রায় বাবা-মা ও পরিবার সবসময় পাশে থেকেছেন এবং সমর্থন করেছেন, যার জন্য তিনি কৃতার্থ। সেই সঙ্গে আফরিন জানান, এই সাফল্য তাঁর বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থনের ফসল।
তার এই অসামান্য কীর্তি ও সাহসিকতার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাব তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলার মানুষ এবং ক্রীড়াপ্রেমীরা তাকে "বাংলার গর্ব" এবং "নারী শক্তির প্রতীক" হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের ছাত্রী আফরিনের এই জয়ে তার পরিবারের পাশাপাশি মেদিনীপুরের মানুষও মেতে উঠেছেন। ইংলিশ চ্যানেল জয় করার পর মেদিনীপুরের মানুষ যেমন তাকে বিশালভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল তারাই হয়তো তৈরি হচ্ছেন নিজের শহরের মানুষ জন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফিরে আসার পর তাঁকে নিয়ে আনন্দে গা ভাসাতে।