পরিবর্তনের হাওয়ায় সম্প্রীতির নতুন ছবি! বিজেপির জয়ে গেরুয়া আবির মেখে উচ্ছ্বাস মাতলেন হিন্দু-মুসলিম সকলেই

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 5 h ago
পরিবর্তনের হাওয়ায় সম্প্রীতির নতুন ছবি! বিজেপির জয়ে গেরুয়া আবির মেখে উচ্ছ্বাস মাতলেন হিন্দু-মুসলিম সকলেই
পরিবর্তনের হাওয়ায় সম্প্রীতির নতুন ছবি! বিজেপির জয়ে গেরুয়া আবির মেখে উচ্ছ্বাস মাতলেন হিন্দু-মুসলিম সকলেই
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির পরিবর্তনের পর দিকে দিকে সম্প্রীতি ছবিও দেখা যাচ্ছে। যা বাংলার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের মসনদে আসীন হয়েছে বিজেপি। তবে এই জয়ের পর যে বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সবথেকে বেশি চমকে দিয়েছে, তা হলো সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলোতে গেরুয়া শিবিরের অভূতপূর্ব উত্থান।
 
জয়ের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উচ্ছ্বাসও দেখা যাচ্ছে। শিলিগুড়ির ফুলবাড়ীর মতিউর রহমানের মতো বহু মানুষ যারা মনে মনে পরিবর্তন চাইছিলেন এখন সরাসরি বিজেপির বিজয় উৎসবে সামিল হচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পালাবদল আসলে রাজ্যের দীর্ঘদিনের ‘ভোটব্যাঙ্ক’ রাজনীতির সমীকরণে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
 

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাখা করলে দেখা যায়, রাজ্যের ১৪৬টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনের মধ্যে বিজেপি ৬৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। ২০২১ সালে এই সংখ্যাটি ছিল মাত্র ১৬। যেসব আসনে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি সেইসব কেন্দ্রতেও ১৭টি পদ্ম ফুটেছে। এই পরিসংখ্যান বুঝিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের চিরাচরিত সংখ্যালঘু দুর্গে ফাটল ধরেছে।
 
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আইএসএফ, কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবীরের দলের কারণে সংখ্যালঘু ভোট বিভাজনের পাশাপাশি হিন্দু ভোট অভূতপূর্বভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বহু আসনে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে এই দ্বিমুখী প্রক্রিয়াই কাজ করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁদের মতে, তৃণমূলের ওপর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সংখ্যালঘুদের শুধুমাত্র ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ সাধারণ ভোটাদের মনে প্রভাব ফেলেছে। সংখ্যালঘুদের একাংশ হয়ত বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, ক্ষমতার এই পালাবদলে হয়তো তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সত্যিকারের উন্নতি ঘটবে।
 
প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সংখ্যালঘুরা মমতার হাত ছেড়ে স্থায়ীভাবে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন? পরিসংখ্যান বলছে, তৃণমূলের মোট জেতা ৮০টি আসনের ৯১ শতাংশই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। অর্থাৎ, তৃণমূলের অস্তিত্ব এখনও এই ভোটের ওপর টিকে আছে, কিন্তু সেই ভোটব্যাঙ্কেও ভাগ বসাতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। অন্য দিকে, বিজেপি একজনও সংখ্যালঘু প্রার্থী না দিয়েও তারা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বহু কেন্দ্রে ভালো ফল করেছে। ফলে সংখ্যালঘুদের একটা অংশ যে তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে তা বলাই বাহুল্য। 
 
বলা যেতে পারে, ২০২৬-এর এই জনাদেশ পশ্চিমবঙ্গের সমাজব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সংখ্যালঘুরা যেভাবে আজ বিজেপির সরকার গঠনকে ভালোবেসে কাছে টেনে নিতে চাইছে, তাতে আগামীদিনে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সম্প্রীতির এই নতুন ছবি কি সত্যিই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে দীর্ঘস্থায়ী হবে, নাকি এটা শুধুমাত্র সাময়িক আবেগ, তা বুঝতে হয়ত কিছুটা সময় লাগবে। তবে এই মূহুর্তে বাংলা জুড়ে বইছে পরিবর্তনের এক জোরালো গেরুয়া ঝড়।