নূরুল হক / আগরতলা
শিক্ষার কোন বয়স নেই। মেয়ের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পাস করার পর এই কথা প্রমাণ করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন শিক্ষক দুদু মিয়া। সিপাহীজলা জেলার জম্পুই জলা ব্লকের প্রমোদ নগরের প্রাক্তন শিক্ষক দুদু মিয়া বর্তমানে একজন কৃষক। তিনি এ বছর নিজের মেয়ে রুমা আক্তারের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেন।
শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে বাপ বেটি দুজনেই একসঙ্গে পাস করেছেন। মেয়ে রুমা আক্তার পেয়েছেন ৫০ শতাংশ নম্বর এবং বাবা দুদু মিয়া পেয়েছেন ৪২ শতাংশ নম্বর। ব্যতিক্রমী ঘটনায় বাপ-বেটির এই সাফল্যে খুশির হওয়া রয়েছে পরিবার সহ প্রতিবেশীদের মধ্যে। বিশেষত বাবা দুদু মিয়ার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাফল্য রীতিমতো নজির তৈরি করেছে।
দুদু মিয়া বলেন ১৯৯৭ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেছিলেন। তার খুব ইচ্ছে ছিল উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার। কিন্তু আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। পরিবারের হাল ধরতে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে আর্থিক রোজগারে নেমে পড়েন। কৃষিকাজ, দৈনিক শ্রম এবং ছোটখাটো ব্যবসার মধ্যে দিয়ে তিনি জীবন চলতে শুরু করেন।
২০১৪ সালে তিনি ত্রিপুরা সরকারের শিক্ষা দপ্তরের অধীনে অ- স্নাতক শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান। পরবর্তীকালে তিনি বিয়ে করেন এবং একটি মেয়ে সন্তান হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ২০২০ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১০৩২৩ জনের সাথে চাকরি চলে যায় দুদু মিয়ার। পরিবার নিয়ে প্রচন্ড সমস্যায় পড়েন তিনি। মেয়ের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালাতে তিনি আবার কৃষিকাজ এবং শ্রম শুরু করেন।
কিন্তু এই কাজের মধ্যেই মেয়ের যখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার সময় হয় তখন নতুন এবং ব্যতিক্রমী চিন্তা আসে দুদুমিয়ার মাথায়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন মেয়ের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন। বাবার এই সিদ্ধান্তে পাশে দাঁড়ায় মেয়ে রুমা আক্তার। সমর্থন করেন দুদু মিয়ার স্ত্রী। মেয়ের সাথে নতুন করে শিক্ষা সংগ্রাম শুরু হয় বাবার।
সারাদিনের কাজের পর মেয়ের নোট থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। বোর্ড পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেন প্রমোদনগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ২০২৬ সালে ত্রিপুরা বোর্ড পরিচালিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেয়ের সঙ্গে একসাথে পরীক্ষা দেন দুদু মিয়া।
দুদু মিয়া তার স্ত্রী ও তাদের কন্যা রুমা
শুক্রবার সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। মেয়ে রুমা আক্তার যেখানে ৫০ শতকরা নম্বর পেয়ে পাশ করেছে।বাবা দুদু মিয়া পাস করেছেন ৪২ শতাংশ নাম্বার পেয়ে। কিন্তু তারপরও তিনি খুশি হয়েছেন এবং আগামী দিনে মেয়ের সাথেই কলেজ শিক্ষা নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে চাইছেন।
দুদু মিয়া বলেন "আমার মত অনেকের হয়েছেন যারা অভাবের কারণে নিজেদের শিক্ষা স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি । তাদেরকে নতুনভাবে মানসিকতা নিয়ে চেষ্টা করা উচিত। চেষ্টার মধ্যে দিয়ে সাফল্য আসে।"