কলকাতা:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্তের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অধ্যাপক শুভশঙ্কর সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত কার্যকরভাবে পরিচালনা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল জানান, শুভশঙ্কর সরকার কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে নিজের অপারগতার কথা জানিয়েছেন। খুব শিগগিরই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হবে।
শুভশঙ্কর সরকার শনিবার ই-মেলের মাধ্যমে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি দিল্লিতে রয়েছেন এবং ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তদন্ত চালানো প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে তদন্তের প্রস্তাব দিলেও তাঁর মতে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই তদন্ত কার্যকরভাবে করা সম্ভব নয়।
গত ২০ আগস্ট ভোরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবিভিপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বহিরাগত আনার অভিযোগ তোলে।
আরএসএস-ঘনিষ্ঠ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের অভিযোগ, ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের বৈঠককে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি সংঘর্ষে জড়ায়। অন্যদিকে এসএফআই ও ডিএসএফ-সহ বামপন্থী সংগঠনগুলির অভিযোগ, এবিভিপিই বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালিয়েছে।
২১ আগস্ট ছাত্র, শিক্ষক ও নাগরিকদের বিক্ষোভের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। ক্যাম্পাসে কথিত ভাঙচুরের ঘটনা খতিয়ে দেখাই ছিল কমিটির মূল দায়িত্ব।
এর মধ্যেই আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ শুভশঙ্কর সরকারের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে উপাচার্যকে চিঠি দেয়। সংগঠনটির দাবি, তাঁর অতীতের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে।
সংগঠনটি তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে কলকাতা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতিকে নিয়োগের দাবি জানিয়েছে, যাতে তদন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে, সংগঠনটির যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি ভাস্কর সরদার শুভশঙ্কর সরকারের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এবিভিপির পক্ষ থেকেও তাঁর নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
এখন নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।