স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর কমনওয়েলথ গেমসে অসমের চার প্রতিনিধি ভারতীয় দলে নির্বাচিত, গর্বিত মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
লভলিনা বরগোঁহাই, লিসা দাস, নয়নমনি শইকিয়া, পুতুল সানোয়াল
লভলিনা বরগোঁহাই, লিসা দাস, নয়নমনি শইকিয়া, পুতুল সানোয়াল
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় ২৩তম কমনওয়েলথ শুরু হচ্ছে আগামী ২৩ জুলাই। এই গেমসে ভারতের হয়ে এবার প্রতিনিধিত্ব ১২৪ সদস্যসের একটি দল। তার মধ্যে অসম থেকে চারজন ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন। এরা হলেন, অলিম্পিকে পদকজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোঁহাই, লন বলের খেলোয়াড় নয়নমণি শইকিয়া ও পুতুল সোনাওয়াল এবং প্যারা-সাইক্লিস্ট লিসা দাস। কমনওয়েলথ গেমসে অসমের এই চার ক্রীড়াবিদ অসমের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক অনন্য ইতিহাস গড়ে  বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। 

সবার আগে যায় নাম আসবে তিনি হলেন তারকা বক্সার লভলিনা বরগোঁহাইয়ের। অসমের সর্বাপেক্ষা পরিচিত বক্সিং তারকা ও অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অন্যতম প্রধান পদকের দাবিদার। বক্সিং রিংয়ে তাঁর উচ্চ আক্রমণাত্মক শৈলী ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তবে এখনও লভলিনা কমনওয়েলথ গেমসে কোন পদক জিততে পারেন নি। সেই পদকটি এবার লভলিনা কমনওয়েলথ গেমসে জিততে চান। 
 
লভলিনা বরগোঁহাই
 
ভারতের হয়ে কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস রচনা করা ক্রীড়াবিদদের মধ্যে অন্যতম হলেন অসমের নয়নমনি শইকিয়া। তিনি ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের উইমেন্স ফোরস বিভাগে স্বর্ণপদক জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। এটি ছিল কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম লন বল পদক।
 
অসমের গোলাঘাট জেলার সরুপথার শহরের টেঙাবাড়ি গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে মেয়ে নয়নমনি। তিনি প্রথমে একজন প্রতিশ্রুতিশীল ভারোত্তলক ছিলেন। কিন্তু পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগার জন্য নয়নমনি ভারোত্তলন  ছেড়ে ২০০৮ সালে  আঘাতের ঝুঁকিহীন খেলা হিসেবে লন বল বেছে নেন। বর্তমানে তিনি অসম বন বিভাগে কর্মরত। 
 
নয়নমনি শইকিয়া
 
নয়নমনি শইকিয়া এই লন বলে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক সাফল্য পেয়েছেন। ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে  ভারতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে ঐতিহাসিক সোনা জেতে। সেই দলের সদস্য তিনি। ২০১৭ সালে নয়াদিল্লি ও ২০২৩ সালে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান লন বল চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি একাধিক স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক জয় করেন।
 
আসন্ন গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৭-নেশনস কাপে নয়নমনি উইমেন্স সিঙ্গেলস ইভেন্টে রৌপ্যপদক অর্জন করেন।২০২৬ সালে তিনি এশিয়ান লন বল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে উইমেন্স সিঙ্গেলস বিভাগে প্রথমবার ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জেতার গৌরব অর্জন করেন। দেশের হয়ে তার এই অনন্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া পুরস্কার 'অর্জুন পুরস্কার' দিয়ে সম্মানিত করেছে। 
 
পুতুল সানোয়াল
 
অসমের লন বলের  আরো একজন খেলোয়াড় পুতুল সানোয়াল স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে আয়োজিত ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি এবং নয়নমণি শইকিয়া ভারতের লন বলের স্কোয়াডের অন্যতম দুই প্রতিযোগী।
 
পুতুল সানোয়াল যে একজন দক্ষ খেলোয়াড় তা তিনি এর আগেও ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কমনওয়েলথ গেমসের আগে, পুতুল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৭তম এশিয়ান লন বলের চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে পুরুষদের সিঙ্গলসে স্বর্ণপদক এবং পুরুষদের ট্রিপলসে ব্রোঞ্জপদক জয় করেছিলেন।
 
লিসা দাস
 
আর অসমের তেজপুরের ১৬ বছর বয়সী প্যারা-সাইক্লিস্ট লিসা দাস ইতিহাস সৃষ্টি করে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে যাচ্ছেন। লিসা ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি ভারতের স্কোয়াডের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য এবং রাজ্যের প্রথম প্যারা-অ্যাথলিট হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। 
 
তেজপুরের বিশ্বনাথের জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী শারীরিক বাধা জয় করে, মাত্র একটি হাতের ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও, অদম্য ইচ্ছা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সাইক্লিংয়ের মতো একটি কঠিন খেলায় বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
২০২৫ সালে তিনি প্রথম ন্যাশনাল প্যারা রোড সাইক্লিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জয় করেন। ২০২৬ এর এশিয়ান প্যারা ট্র্যাক চ্যাম্পিয়নশিপে ২টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। আন্তর্জাতিক ইভেন্টে তার সাফল্য লানা কাপে। তিনি ২টি স্বর্ণ জয় করেন এবং কোরাত কাপে একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এবার কমনওয়েলথ গেমস তিনি ভারতের ১২৪-সদস্যের স্কোয়াডের অংশ হয়ে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে 'প্যারা ট্র্যাক সাইক্লিং' ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছেন। সমগ্র অসমের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। 
 
সম প্যারালিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কমনওয়েলথ গেমসে তার অন্তর্ভুক্তিকে রাজ্যের প্যারা ক্রীড়া আন্দোলনের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে এবং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে যে তার সাফল্য সম জুড়ে নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রাণিত করবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে চলা অসমের এই চার ক্রীড়াবিদকে নিয়ে গর্বিত। তিনি তাদের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।


শেহতীয়া খবৰ