ওয়াশিংটন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা, কনভেনশন ও চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে বুধবার (স্থানীয় সময়) একটি স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরান্ডার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ৩৫টি নন-ইউএন সংস্থা এবং রাষ্ট্রসংঘের অধীনে থাকা ৩১টি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
নন-ইউএন সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স, পরিবেশ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (IUCN) এবং ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC)।
এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল রিনিউএবল এনার্জি এজেন্সি, পার্টনারশিপ ফর আটলান্টিক কো-অপারেশন এবং গ্লোবাল কাউন্টার টেররিজম ফোরামসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রসংঘের যেসব সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধ হচ্ছে, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স, ইন্টারন্যাশনাল ল কমিশন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার, পিসবিল্ডিং কমিশন, ইউএন এনার্জি, ইউএন পপুলেশন ফান্ড এবং ইউএন ওয়াটার।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমস্ত নির্বাহী দপ্তর ও সংস্থাকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে যত দ্রুত সম্ভব এই প্রত্যাহার কার্যকর করা যায়। রাষ্ট্রসংঘের সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এর অর্থ হবে, আইনের সীমার মধ্যে থেকে ওই সংস্থাগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্র সচিবের রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বা সমর্থন দেশের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় এক বছর আগেই ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। একই বছর জুলাই মাসে ইউনেস্কো থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে যায়, কারণ সেই সংস্থাকে দেশের “জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয়” বলে দাবি করা হয়েছিল।