নয়াদিল্লিঃ
ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন। চীন সফরে গিয়ে বেইজিংয়ের সহায়তায় কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হলেও, ওয়াশিংটনে ফেরার পর দৃশ্যমান কোনো সমাধানের ইঙ্গিত দিতে পারেননি ট্রাম্প। ফলে কূটনীতি নাকি আরও সামরিক চাপ, কোন পথে এগোবে যুক্তরাষ্ট্র তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় বলেও একমত হয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং অতীতেও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিল, ফলে এটিকে বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প নিজেও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, অর্থনৈতিক চাপ ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তেহরানকে সমঝোতায় আনা সম্ভব হবে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এখনো অবস্থান নরম করার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবে!” পরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব তিনি দেখেছেন, কিন্তু “প্রথম বাক্যটাই” তার পছন্দ হয়নি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য এখনো আলোচনায় অগ্রগতির আশা দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তারা আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গ্যালনপ্রতি সাড়ে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রিপাবলিকান নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতির রাজনৈতিক মূল্য নভেম্বরের নির্বাচনে দিতে হতে পারে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী মহলও দ্রুত সমাধানের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা জানান, করপোরেট নেতাদের প্রধান বার্তা এখন একটাই-“যেভাবেই হোক, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরানকে চাপে রাখা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ক্ষতি সামাল দেওয়া—এই দুই চ্যালেঞ্জ এখন একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।