তালিবান-পরবর্তী অধ্যায়ে ভারত–আফগান সম্পর্কের নতুন বার্তা: দিল্লিতে নূর আহমেদ নূরের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 Months ago
নূর আহমেদ নূর
নূর আহমেদ নূর
 
আওয়াজ দ্যা ভয়েস 

তালিবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তান ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। আফগানিস্তান নতুন দিল্লিতে অবস্থিত তাদের দূতাবাসে অভিজ্ঞ কূটনীতিক নূর আহমেদ নূরকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছে, যা তালিবান-পরবর্তী সময়ে ভারতে আফগানিস্তানের প্রথম কূটনৈতিক নিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে নূর আহমেদ নূর ইতিমধ্যেই ভারতের রাজধানীতে পৌঁছেছেন। এর আগে তিনি আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম রাজনৈতিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই নিয়োগকে দুই দেশের মধ্যে মানবিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষত মানবিক ও স্বাস্থ্য খাতে আফগানিস্তান ও ভারতের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই নিয়োগকে একটি নতুন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আফগানিস্তানে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও ভারত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে, এবং উভয় পক্ষই এই সহযোগিতা ধরে রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
 
ভারত আফগান সীমান্ত
 
২০ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী মৌলভি নূর জালাল জালালি বলেন, আফগানিস্তানের ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন পূরণে ভারত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কের “অবনতি” ঘটায় ভারত আফগানিস্তানের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 
জালালি স্পষ্টভাবে জানান, আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার একটি ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করতে চায়। তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং স্বাস্থ্য খাতে ভারতকে একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে এসেছি। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।”
 
নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে সফরের সময় জালালি এসব মন্তব্য করেন। এই সফরকালে ভারত আফগানিস্তানকে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়। এই স্বাস্থ্য সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
 
আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও আফগানিস্তানের প্রতি নতুন দিল্লির মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জালালিকে তাঁর প্রথম ভারত সফরে স্বাগত জানানোর পরই এই সফর শুরু হয়। এটি দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ ও আদান–প্রদানের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ ছিল।
 
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন
 
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেন। সে সময় ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আনন্দ প্রকাশ করেন এবং আতিথেয়তার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানান। মুত্তাকি বলেছিলেন, “এখন পর্যন্ত সফরটি খুব ভালো হয়েছে। শুধু দারুল উলুমের মানুষই নয়, আশপাশের এলাকার লোকজনও এখানে এসেছেন। তাঁরা যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
 
এরও আগে, ২৪ নভেম্বর আফগানিস্তানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আলহাজ নুরউদ্দিন আজিজি একটি বড় সাফল্যের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভিসা সমস্যা সমাধান হয়েছে, যার ফলে এখন আফগান নাগরিকরা চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভিসা পেতে পারবেন। পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিক সফরের শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই পরিষেবাগুলি কার্যকরভাবে প্রদান করতে আফগান দূতাবাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি, কাবুলে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও আফগান নাগরিকদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। 
 
এই প্রেক্ষাপটে নূর আহমেদ নূরকে ভারতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া স্পষ্টভাবে একটি নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বহন করছে। কারণ মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা, সরকারি সফর এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশ ক্রমাগতভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থেকে চলেছে।