প্যারিসঃ
মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে ফ্রান্সে চলমান মানবপাচার তদন্তে নতুন করে অন্তত ১০ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগী সামনে এসেছেন। ফরাসি প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এদের অনেকেই আগে কখনো অভিযোগ করেননি বা তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রসিকিউটর লর বেকোয়া জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগী তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে কিছু নারী আগে থেকেই তদন্তকারীদের পরিচিত ছিলেন। তবে নতুন করে প্রায় ১০ জন নারী সামনে এসেছেন, যাদের বিষয়ে আগে কোনো তথ্য ছিল না।
জেফরি এপস্টিনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন কাজে ব্যবহার ও পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে তদন্ত চলছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিকভাবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিন তদন্ত-সংক্রান্ত নতুন নথিপত্র প্রকাশ করার পর ফ্রান্সে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে, ফ্রান্সে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কি না অথবা কোনো ফরাসি নাগরিক এপস্টিনের অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিলেন কি না।
তদন্তকারীরা বর্তমানে তথাকথিত ‘এপস্টিন নথি’ খতিয়ে দেখছেন। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সেখানে উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের নাম যাচাই করা হচ্ছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফরাসি তদন্তকারীরা প্যারিসে এপস্টিনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়েছিলেন। তার আগের মাসেই নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টিনের মৃত্যু হয়।
ফরাসি তদন্তে আগে থেকেই যেসব সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর তথ্য ছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন নারী সাবেক ইউরোপীয় মডেল সংস্থা প্রধান জেরাল্ড মারি এবং প্রয়াত মডেল এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেলকে ঘিরে তদন্ত চলাকালে অভিযোগ করেছিলেন।
গত মার্চে ১৫ জন নারী ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে জেরাল্ড মারির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ ছিল, মারির সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে আশির ও নব্বইয়ের দশকে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে হওয়া আরেকটি তদন্ত ২০২৩ সালে বন্ধ করে দেয় ফরাসি কর্তৃপক্ষ। কারণ, অভিযোগগুলোর সময় অনেক পুরোনো হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে জ্যঁ-লুক ব্রুনেলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতন করেছেন এবং জেফরি এপস্টিনের জন্য ভুক্তভোগী জোগাড় করতেন। ২০২২ সালে কারাগারে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
প্রসিকিউটর লর বেকোয়া জানিয়েছেন, মানবপাচার তদন্তে এখন পর্যন্ত যেসব ব্যক্তি সম্ভাব্যভাবে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের কাউকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।
জেফরি এপস্টিন ২০০৮ সালে ১৮ বছরের কম বয়সী এক কিশোরীকে যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। সে সময় তাকে ১৩ মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। পরে তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান।