পাকিস্তানে হিন্দু ও ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 23 h ago
পাকিস্তানে হিন্দু ও ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের
পাকিস্তানে হিন্দু ও ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের
 
পাঞ্জাব,পাকিস্তান:

পাকিস্তানে লাহোরে পুরোনো হিন্দু ও ঐতিহাসিক নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে শহরের একাধিক এলাকার নাম পরিবর্তন করে দেশভাগের আগের পরিচিত নামগুলো পুনর্বহাল করা হচ্ছে, যা ইতিহাস সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাদেশিক সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাহোরের কয়েকটি এলাকার নাম পরিবর্তন ইতোমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ইসলামপুর’ এলাকার নতুন নাম করা হয়েছে ‘কৃষ্ণনগর’, আর ‘সুন্নত নগর’ এখন থেকে ‘সন্ত নগর’ নামে পরিচিত হবে। একইভাবে ‘মুস্তফাবাদ’ এলাকার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ধর্মপুরা’। শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কের নামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন ‘মৌলানা জাফর চক’ এর নতুন নাম হয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, আর ‘বাবরি মসজিদ চক’ এর নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘জৈন মন্দির চক’।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে লাহোরের ঐতিহাসিক রূপ পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক পর্যায়ে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৪৭ সালের আগে লাহোর ছিল হিন্দু ও শিখ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সে সময় শহরের অনেক স্থান ও সড়কের নাম সনাতন ধর্মীয় ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দেশভাগের পর ধাপে ধাপে এসব নাম পরিবর্তন শুরু হয়, যা পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের আমলে আরও বিস্তৃত হয়।

বিশেষ করে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ও পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তনের গতি আরও বাড়ে বলে ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন।

বর্তমানে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ইতিহাস পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিষয়টি ভবিষ্যতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।