দিল্লির সঙ্গে সংলাপেই অগ্রাধিকার, ফরাক্কা ও সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার ইঙ্গিত নতুন সরকারের

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Aparna Das • 1 Months ago
বি এন পি মহাসচিব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বি এন পি মহাসচিব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী 

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে, তা স্বীকার করেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটতে চায় আসন্ন সরকার। শপথগ্রহণের প্রাক্কালে ঢাকার গুলশানে দলীয় সদর দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সংঘাত নয়, কূটনৈতিক সংলাপ ও বাস্তববাদী সম্পর্ককেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ফখরুল জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির আওতায় ফরাক্কা বাঁধ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী ঢাকা। শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং নিম্ন অববাহিকায় প্রভাব, এসব প্রশ্নকে সামনে রেখেই আলোচনা এগোবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতে পারব না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করার কথা বলেন, তাঁরা পাগলের মতো কথা বলছেন।”
 
মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করেও তিনি দলীয় কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বিশেষ করে খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার সময়। দেশের অভ্যন্তরে সংগঠন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ফখরুল। ফলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষত ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
 
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য, বাংলাদেশের স্বার্থে যে সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প রয়েছে, সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়নই হবে অগ্রাধিকার। অবকাঠামো, বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষেও মত প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পারস্পরিক স্বার্থের জায়গাগুলি চিহ্নিত করে এগোতে পারলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
 
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ঘিরে প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেন ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে জনতা। আমাদের মতে, তাঁকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ভারতের।” যদিও একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না-করার বিষয়টি দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না। বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পক্ষেই সওয়াল করেন তিনি।
 
সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা নিয়েও ভারতের সঙ্গে কাঠামোগত আলোচনা চায় নতুন সরকার। সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, এসব ইস্যুতে পারস্পরিক আস্থা ও নিয়মিত সংলাপ জরুরি বলে মত দেন ফখরুল। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত সমস্যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক স্তরে সমাধানযোগ্য।
 
ফখরুল আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গভীরভাবে জড়িত। সেই বাস্তবতা অস্বীকার করে এগোনো সম্ভব নয়। তাই মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই হবে কৌশল। “আমরা আরও ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই,” মন্তব্য করেন তিনি।