‘মুসলিমকে ভারতে থাকতে দেওয়া উচিত নয়’—এমন ভাবনা হিন্দুত্বের নয়, নিউইয়র্কে মন্তব্য মোহন ভাগবতের
নিউইয়র্কঃ
নিউইয়র্কে দাঁড়িয়ে ভারতের বহুত্ববাদ ও ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। শনিবার ‘এক বিশ্ব, এক মানবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কোনও হিন্দু যদি মনে করেন ভারতে কোনও মুসলিমের থাকা উচিত নয়, তাহলে তিনি হিন্দুই নন। তাঁর বক্তব্য, হিন্দুত্বের ধারণা ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে দেশ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে না; বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলাই ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ভারতের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের কথা তুলে ধরে ভাগবত বলেন, বিভিন্ন ধর্মের আচার ও উপাসনার পদ্ধতি আলাদা হলেও সত্যের সন্ধান ও মানবকল্যাণই সবার মূল লক্ষ্য। একই সত্যকে মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের বর্তমান রাজনীতি নিয়েও অনুষ্ঠানে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর সংবিধানের মাধ্যমে যে ঐক্য ও মানবতার ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাজনীতিকে এর জন্য দায়ী করে ভাগবত বলেন, রাজনীতি এখন অনেক সময় স্বার্থের খেলায় পরিণত হয়েছে। তাঁর বার্তা, ‘আমি’ বা ‘আমিত্ব’-এর পরিবর্তে ‘আমরা’ ও ‘আমাদের’ ভাবনাই সমস্যার সমাধানের পথ দেখাতে পারে।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ১৯৯৬ সালের হরিয়ানা বিমান দুর্ঘটনার উদাহরণও দেন ভাগবত। তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও আরএসএসের স্বয়ংসেবকেরা উদ্ধারকাজে ধর্মের কথা না ভেবে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছিলেন এবং নিহতদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে উদ্ধার করে শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করেছিলেন।
শিক্ষার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, সমাজকে শিক্ষিত করার প্রচেষ্টা থেকে পিছিয়ে গেলে নানা ধরনের বিচ্যুতি সমাজকে গ্রাস করতে পারে।
তবে নিউইয়র্কে ভাগবতের এই অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিউইয়র্কের মেয়র জ়োহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, নিউইয়র্ক সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমানাধিকারে বিশ্বাসী। কয়েকটি প্রবাসী সংগঠনও ভাগবতের সভার প্রতিবাদ জানায়।
‘দ্য ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-এর প্রধান আসিফ মহম্মদও প্রথমে ভাগবতের মার্কিন সফরের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে অনুষ্ঠানের আগে তাঁর অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন আসে। তিনি জানান, কাউকে আঘাত করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয় এবং সুযোগ পেলে ভাগবতের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতেও তিনি আগ্রহী।
নিউইয়র্কের অনুষ্ঠান শেষে ভাগবতের কানাডা ও ব্রিটেন সফরের কর্মসূচি রয়েছে। ফলে তাঁর সফর ঘিরে বিতর্ক এবং তাঁর বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে।