কাঠমান্ডু
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা যেমন ক্রমশ বাড়ছে, তেমনই উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে নিখোঁজদের নিয়ে। রসুয়া জেলার ভোটে কোশি নদীতে হঠাৎ বিপুল জলস্রোত নেমে আসার পর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হিমবাহ ধসের জেরে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৬১৬ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ২,৫০০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এই বিপর্যয়ে ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যাও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৪০০ জন ভারতীয় নাগরিক তিব্বত অর্থাৎ চিনের অংশে আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছে ভারত।
তবে উদ্ধারকাজে কিছুটা স্বস্তির খবরও মিলেছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চিনের দিক থেকে আটকে থাকা ১৫৩ জন ভারতীয় নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করতে পেরেছেন। শুক্রবার আরও ২১ জন ভারতীয় নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে প্রথমে তাঁরা কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছিলেন, সেখান থেকে তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।
নেপালের ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তবে এখনও প্রায় ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের অনেকেই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে তাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন, অন্য দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে তাঁদের।
বিদেশ মন্ত্রক চিন থেকে নেপালে নিরাপদে প্রবেশ করা ১৪৯ জন ভারতীয়ের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় অসমের বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও জানিয়েছেন, রাজ্যের অন্তত ১২ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন কার্বি আংলংয়ের ঋতুপূর্ণ ব্রহ্মা, মন্ত্রী বসুমতারি এবং সোনেশ্বর নার্জারি। জানা গিয়েছে, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে কাজের সন্ধানে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছে গোলাঘাটের রাহুল ডাইমারি, হোজাইয়ের শতদল নাথ, নলবাড়ির অরুণ মহন্ত এবং নলবাড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক তীর্থ চলিহা। গুয়াহাটির তিন বাসিন্দা, দীপালি সরকার, পঙ্কজ নওগ এবং মানস কুমার ঘোষ, এরও নাম রয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
এদিকে নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও নদীর আশপাশের এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজে একাধিক বাধা তৈরি হয়েছে। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও উদ্ধারকারী স্তরে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।