ঢাকা:
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে $২৯.৮৬ বিলিয়ন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রধান কারণ
বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বৃদ্ধির জন্য মূলত নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মার্কিন ডলার ক্রয় করছে। এই পদক্ষেপটি শুধু রিজার্ভ বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রভাব
ফরমাল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরিত প্রবাসী রেমিট্যান্সও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৬ সালের প্রথম মাসে দেশে $৩.১৭ বিলিয়ন রেমিট্যান্স প্রবেশ করেছে, যা রেকর্ডে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাহ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি ২০২৫ সালের জানুয়ারির $২.১৮ বিলিয়নের তুলনায় ৪৫.৪১% বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলিতে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
ডলার ক্রয় নীতি
বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয় করে রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে। এর ফলে, ডলারের মান অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা না করে দেশের বাণিজ্য ও আমদানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
মুদ্রা নিরাপত্তা: উচ্চ রিজার্ভ দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও আমদানির জন্য নিরাপত্তা দেয়। মুদ্রা বিনিময় স্থিতিশীলতা: রিজার্ভ বৃদ্ধি ডলারের মূল্য ওঠানামা সীমিত রাখে। বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ আকর্ষণ: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতায় আস্থা রাখে। মুদ্রানীতি প্রভাব: বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর রিজার্ভ নীতি মুদ্রানীতি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব রাখে। যদি রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয়ের নীতি একইভাবে চালু থাকে, তবে ২০২৬ সালের মধ্যে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি একসাথে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এটি দেশের আর্থিক খাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে আরও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থানে স্থাপন করছে।