উপসাগর পেরিয়ে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা! ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আঁচ এবার ইয়েমেন ও সৌদি আরবে

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 2 h ago
উপসাগর পেরিয়ে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা! ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আঁচ এবার ইয়েমেন ও সৌদি আরবে
উপসাগর পেরিয়ে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা! ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আঁচ এবার ইয়েমেন ও সৌদি আরবে
 
অ্যাড্রেস (লিড)

মার্কিন হামলায় সাময়িক বিরতি এলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খুলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের তেল পরিকাঠামোয় হামলা, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে বিস্ফোরণ এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইরানের সরাসরি অভিযোগ, সব মিলিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ রাত ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর হঠাৎই সেই অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নৌ অবরোধ এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে ইরান আলোচনায় না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
 
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়া, উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় আপাতত বৃহত্তর সামরিক অভিযান থেকে সরে এসেছে হোয়াইট হাউস।
 
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কমলেও উত্তেজনা থামেনি। শনিবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর তেল স্থাপনাগুলিতে হামলার দাবি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে জিজানের শোধনাগারের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে।
 
বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজানের জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং তেল পরিকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে আরামকো এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
 
অন্যদিকে, ইয়ানবুতে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবে মোতায়েন মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে গ্রিসের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু এখন সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের পর এর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
 
একই সময়ে ইয়েমেনেও সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিমানবাহিনী মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছে। তার আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হোদেইদাহ শহরে হুথিদের সামরিক ঘাঁটিতেও বোমাবর্ষণ করে। যদিও বন্দর এলাকায় হামলা চালানো হয়নি বলে দাবি করেছে জোট বাহিনী।
 
ইয়েমেনের সরকারি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের দুই পক্ষই এখন সীমান্ত এলাকায় নতুন করে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটাই থেমে গেলেও চলতি মাসে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের লড়াইয়ে হুথিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
 
হুথি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা করেছে। সংগঠনের প্রধান আবদুল মালিক আল-হুথি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের সব তেল স্থাপনাই এখন হামলার লক্ষ্য হতে পারে। গত সপ্তাহেই লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও হামলার দাবি করেছে তারা।
 
এদিকে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে কাস্পিয়ান সাগরের একটি বিস্ফোরণকে ঘিরে। ইরানের অভিযোগ, ইউক্রেন একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। সেই বিস্ফোরণে এক নাবিক নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন বলে দাবি তেহরানের। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক।
 
যদিও ইউক্রেন সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে কাস্পিয়ান সাগরে "দূরপাল্লার সফল হামলার" কথা উল্লেখ করে বলেন, সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।
 
পাল্টা জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে, যাতে তারা আঞ্চলিক হামলা আরও নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে পারে।
 
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত এখন শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইয়েমেন, সৌদি আরব, ইউক্রেন, রাশিয়া এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, সবকিছুকে জড়িয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই আশঙ্কা বাড়ছে যে এই যুদ্ধ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর।