মিজান – এক নতুন মুসলিম চিন্তাধারার দিকে

Story by   Atir Khan | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
মিজান – এক নতুন মুসলিম চিন্তাধারার দিকে
মিজান – এক নতুন মুসলিম চিন্তাধারার দিকে
 
  আতীর খান

প্রিয় পাঠকবৃন্দ,

আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই যে, আমাদের নতুন ধারাবাহিক ‘মিজান – এক নতুন মুসলিম চিন্তাধারার দিকে’ শুরু করতে চলেছি। এই ধারাবাহিকের মূল উদ্দেশ্য হল আমাদের সময়ের কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জ্বলন্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় মুসলমানরা কেন পিছিয়ে পড়ে রইলেন? আমরা যখনই এই প্রশ্ন করি, তখন সাধারণত এর জন্য রাজনীতি বা দেশের শাসনব্যবস্থাকে দায়ী করি।

এটা সত্য যে, গত কয়েক দশকে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মুসলমানরা বহু সময় নিজেদের প্রান্তিক বলে মনে করেছেন। কিন্তু সমস্যার সম্পূর্ণ চিত্র এটি নয়। যদি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বই কোনো সম্প্রদায়ের উন্নতির একমাত্র সমাধান হতো, তাহলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ, দুই দেশই আজ আরও উন্নত অবস্থানে থাকত। কিন্তু বাস্তব চিত্র তেমন নয়।
 
প্রতীকী ছবি
 
আসলে, সম্প্রদায়টি আজ যে বহু সমস্যার মুখোমুখি, তার শিকড় নিজেদের ভেতরেও খুঁজে দেখতে হবে। ভারতীয় মুসলমানদের দুর্বল অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল দ্রুত পরিবর্তিত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে না পারা। ভারতীয় মুসলিম সমাজে এমন একটি গঠনমূলক ও ইতিবাচক চিন্তাধারার অভাব বরাবরই অনুভূত হয়েছে, যা সমাজকে উন্নতি ও বিকাশের একটি সুদৃঢ় পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারত।
 
হয়তো এখন সময় এসেছে সমাজের একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও নতুন কথন লাভ করার। মুসলমানরা বিজ্ঞানী, উদ্যোগপতি, আইনজ্ঞ, শিল্পী, অসামরিক পরিষেবার আধিকারিক, পণ্ডিত এবং সৈনিক হিসেবে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিক চিত্রের তুলনায় এই অসাধারণ সাফল্যগুলি এখনও অত্যন্ত সীমিত।
 
মুসলিম সমাজকে নিয়ে জনপরিসরের আলোচনা বহু সময় ভয়, পরিচয় ও মেরুকরণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ফলে শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো জরুরি বিষয়গুলি রাজনৈতিক বাক-বিতণ্ডা ও আবেগপ্রবণ বিতর্কের মধ্যে পিছিয়ে পড়েছে।
 
এই চ্যালেঞ্জের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া আত্মদয়া বা নিজেদের অসহায় মনে করা হওয়া উচিত নয়; বরং তা হওয়া উচিত নিজেদের সৎভাবে আত্মবিশ্লেষণ করার মানসিকতা এবং উন্নতির প্রতি গভীর আগ্রহ। অধিকাংশ ভারতীয় মুসলমানের কাছে ধর্ম তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও সামাজিক চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যই মুসলিম সমাজের এক বৃহৎ শক্তি হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে ইসলামের শিক্ষাগুলিকে যথাযথভাবে সংযুক্ত করে বুঝতে না পারার ফলে সমাজে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
 
বিশ্বাস চিরন্তন, কিন্তু আইন, রীতিনীতি ও পরম্পরা চিরন্তন নয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সেগুলিও পরিবর্তিত হওয়া উচিত। আমাদের ধর্মীয় বোধ অনেক সময় কোরাণ, সুন্নাহ এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চার সমৃদ্ধ বৌদ্ধিক পরম্পরার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিবর্তে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া রীতিনীতি, মতাদর্শগত আনুগত্য এবং সাংস্কৃতিক প্রথার দ্বারা বেশি গড়ে উঠেছে।
 
ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত মহান আদর্শ ও উদ্দেশ্যগুলি অর্জনের ক্ষেত্রে কখনও কখনও ধর্মীয় পাঠের তুলনায় ব্যক্তি অথবা বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠান বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর ফলেই বহু ভুল ধারণা দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে, অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও গভীর হয়েছে এবং বহু মুসলমান ইসলামের নিজস্ব জীবন্ত ও গতিশীল চিন্তা-মননের পরম্পরা থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এর পরিণতি আজ আমাদের চোখের সামনেই স্পষ্ট।
 
শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি এখনও যথেষ্ট নয়, জনজীবনে মহিলাদের অংশগ্রহণ বহু ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হয় না এবং মানসম্পন্ন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে আছি। এই দুর্বলতাগুলি অর্থনৈতিক স্থবিরতায় অবদান রেখেছে এবং অন্যান্য ভারতীয়দের মধ্যে মুসলমানদের নিয়ে থাকা নেতিবাচক ধারণাগুলিকেও আরও শক্তিশালী করেছে। এর মধ্যে একটি গভীর পরস্পরবিরোধিতা রয়েছে।
 
যে সম্প্রদায় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও জনজীবনে অসাধারণ অবদান রেখেছিল, সেই একই সম্প্রদায় আজ অনিশ্চয়তা, ক্রমহ্রাসমান সামাজিক আত্মবিশ্বাস এবং ব্যাপক অবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করছে। বিভাজন, কঠোর চিন্তাধারা, নিজেদের সবসময় বঞ্চিত বা নিপীড়িত বলে মনে করার মানসিকতা এবং একটি অভিন্ন উন্নয়নমূলক লক্ষ্যের অভাব ভারতীয় মুসলিম সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
 
২০০৬ সালে সাচার কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার সময় সেই প্রতিবেদনে ভারতীয় মুসলমানদের শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে থাকা বঞ্চনার একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। এই প্রতিবেদনটি সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল।
 
প্রতীকী ছবি
 
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটিকে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে খুব শীঘ্রই এটি সামাজিক পরিবর্তনের একটি পথনির্দেশিকা হওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রতিযোগিতার একটি বিষয় হয়ে উঠেছিল। প্রায় দুই দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরও, সেই সময় চিহ্নিত করা বহু মৌলিক সমস্যা আজও বিদ্যমান।
 
পরিচয়কে কেন্দ্র করে হওয়া বিতর্ক শিক্ষা, উদ্যোগশীলতা, উৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সামাজিক সংস্কারের মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলিকে অনেকাংশে আড়ালে সরিয়ে দিয়েছে। ভারতীয় মুসলমানরা কোনো একধরনের বা একরূপ সম্প্রদায় নন। তাঁদের ভাষা, জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি ও পরম্পরার মধ্যে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ একটি বৃহৎ জনসমষ্টির সামনে থাকা প্রতিটি সমস্যার সমাধান একই পদ্ধতিতে করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও, এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও বহু কাঠামোগত সমস্যা আশ্চর্যজনকভাবে একই রকম।
 
ভারতীয় গণতন্ত্রের রূপ পরিবর্তিত হয়েছে, রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলেছে। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুসলমানদের নির্বাচনী সংখ্যা বা ভোটের সমীকরণ এখন আর প্রয়োজনীয় ফলাফল নিশ্চিত করার অবস্থায় নেই। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে যে, মুসলিম সমাজের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতেও সেই অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে হবে।
 
এখন এটা স্পষ্ট যে, আগামী কয়েক দশকে মুসলিম সমাজের ভবিষ্যৎ শুধু রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভর করবে না। বরং এর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে শিক্ষা, বৌদ্ধিক আত্মবিশ্বাস, অর্থনৈতিক শক্তি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতা এবং দেশের সঙ্গে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক। আর এই পরিবর্তন সমাজের ভেতর থেকেই আসতে হবে।
 
তাই এই সময় উন্নতির একটি নতুন ভাষা ও নতুন চিন্তাধারার আহ্বান জানাচ্ছে। এমন এক চিন্তাধারা, যা গৌরবময় অতীতের স্মৃতিতে আবদ্ধ থাকার পরিবর্তে আত্মবিশ্বাসকে, নিজেদের সবসময় বঞ্চিত বলে মনে করার মানসিকতার পরিবর্তে আত্মবিশ্বাসকে, প্রতীকী কথাবার্তার পরিবর্তে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাকে এবং সংঘাতের পরিবর্তে অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেবে।
 
এই বিশ্বাস ও দৃঢ়তাই ‘মিজান’-এর মূল ভিত্তি গড়ে তুলেছে। আজ আওয়াজ - দ্য ভয়েস যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় উদ্যোগ শুরু করতে চলেছে, এটি তারই একটি অংশ। গত কয়েক বছর ধরে আৱাজের সাংবাদিকতা সচেতনভাবে সেই গতানুগতিক ধারা থেকে সরে আসার চেষ্টা করে এসেছে, যে ধারার মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের সাধারণত দেখা ও বোঝা হয়।
 
আজও মুসলিম সমাজকে বহু সময় সংঘাত ও পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। এই ধারণা পরিবর্তনের দায়িত্ব ভারতীয় মুসলমানদেরই। মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করার পরিবর্তে সমাজকে মূলত নিজেদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
 
আৱাজে আমরা এমন একটি পথ বেছে নিয়েছি, যার ভিত্তি হল গবেষণা, তথ্য-প্রমাণ, অন্তর্ভুক্তি ও বৌদ্ধিক সততা। আমাদের উদ্দেশ্য বিভাজনকে আরও গভীর করা নয়; বরং আলোচনা ও মতবিনিময়কে উৎসাহিত করা।
 
মুসলিম সমাজের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জটি ইসলাম ও আধুনিকতার মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার নয়। বরং চ্যালেঞ্জ হল, ইসলামের চিরন্তন নৈতিক মূল্যবোধ কীভাবে একবিংশ শতাব্দীর জটিল বাস্তবতার সঙ্গে অর্থপূর্ণভাবে যুক্ত হতে আমাদের পথ দেখাতে পারে, তা প্রমাণ করা। এর পাশাপাশি সহনাগরিকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে সহযোগিতা, সন্দেহের পরিবর্তে আলোচনা এবং সমান্তরালভাবে পৃথক হয়ে থাকার পরিবর্তে দেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজন হবে।
 
ভারতের বহুত্ববাদী গণতন্ত্র বহু সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু সেই সুযোগগুলিকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক বিশ্বাস। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ‘মিজান’ ধারাবাহিকে ভারত ও বিদেশের বিশিষ্ট পণ্ডিত, চিন্তাবিদ, পেশাদার ব্যক্তি ও জনবুদ্ধিজীবীদের প্রবন্ধ, আলোচনা এবং পডকাস্ট একত্রিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আজ মুসলিম সমাজের সামনে থাকা কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
 
প্রতীকী ছবি
 
এই ধারাবাহিকের উদ্দেশ্য কোনো বাহ্যিক বা উপরিভাগের সমাধান তুলে ধরা নয়, কিংবা জটিল সমস্যার সরলীকৃত উত্তর দেওয়াও নয়। একইভাবে, সময়ে সময়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক ধারা বা ফ্যাশনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য ইসলামকে নতুন রূপ দেওয়ার কোনো চেষ্টাও এখানে করা হয়নি। ইসলামের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তি সম্পূর্ণ। একে বারবার নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইসলামের শিক্ষাগুলিকে সঠিকভাবে বুঝে পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সেই শিক্ষাগুলিকে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেই উপলব্ধির প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে।
 
অতীতে মুসলমানরা নিজেদের সময় ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামের নির্দেশনাগুলির ব্যাখ্যা করেছেন, অথচ কোরাণের চিরন্তন বার্তা এবং হজরত মহম্মদ (সাঃ)-এর আদর্শের প্রতি তাঁদের আনুগত্য অটুট রেখেছেন। আমাদের প্রজন্মও একই ধরনের গভীর, বিচক্ষণ ও চিন্তাশীল সংযোগের মানসিকতার দাবিদার এবং প্রকৃতপক্ষে এর প্রয়োজনও রয়েছে।
 
‘মিজান’-এর মূল উদ্দেশ্য হল ভারতীয় মুসলিম সমাজের উন্নতি ও কল্যাণের লক্ষ্যে একটি গঠনমূলক আলোচনার সূচনা করা। যা আমাদের আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে, আমাদের মনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এমন কিছু ধারণাকে প্রশ্ন করতে, যেগুলি আমাদের আত্মতুষ্ট করে রাখে, ইসলামের নৈতিক শক্তি ও জীবন্ত চেতনাকে পুনরায় উপলব্ধি করতে এবং ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানায়।
 
হাজার হাজার তরুণ মুসলমান আজ নীরবে বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ, জনসেবা এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছেন। তাঁদের সাফল্য প্রমাণ করে যে, মুসলিম সমাজের সামনে থাকা বাধাগুলি স্থায়ী নয় এবং সেগুলি অতিক্রম করাও অসম্ভব নয়।
 
ভারত যখন ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, তখন ভারতীয় মুসলমানদের সামনে এই জাতীয় যাত্রার সক্রিয় অংশীদার হওয়ার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে দায়িত্বও। সমাজকে শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষা, ব্যবসা, বিজ্ঞান, আইন, সংবাদমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব প্রয়োজন।
 
ভবিষ্যৎ এমন কোনো বিষয় নয়, যা শুধু ভারতীয় মুসলমানদের ওপর সংঘটিত হবে। ভবিষ্যৎ হল এমন এক বাস্তবতা, যা গড়ে তুলতে তাঁদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
 
আমাদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনাদের মতামত ও পরামর্শ আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য আমরা পাঠকদের আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা আপনাদের মতামত ও পরামর্শ আমাদের ই-মেইল: [email protected] ঠিকানায় পাঠাতে পারেন।
 
(আতীর খান, মুখ্য সম্পাদক, আওয়াজ - দ্য ভয়েস)


অধিক পঢ়ক