কলকাতাঃ
পশ্চিমবঙ্গে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ১১টি হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। সরকারের “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” নীতির আওতায় বর্তমানে এসব কেন্দ্রে মোট ৩৩৫ জনকে রাখা হয়েছে বলে শুক্রবার প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই সন্দেহভাজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা। সীমান্তবর্তী বসিরহাট এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আটক ব্যক্তি রয়েছেন।এক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, “এখন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১১টি হোল্ডিং সেন্টার খোলা হয়েছে। কিছু পুলিশ জেলার অধীনে এবং কিছু জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চলছে।”
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আটটি পুলিশ জেলা এবং তিনটি প্রশাসনিক জেলায় এই হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। পুলিশ জেলা ভিত্তিক যেসব এলাকায় শিবির খোলা হয়েছে সেগুলো হলো বারুইপুর, সুন্দরবন, বসিরহাট, বনগাঁ, বারাসত, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর ও কৃষ্ণনগর। পাশাপাশি প্রশাসনিক জেলা হিসেবে মালদা, কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুরেও পৃথক হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
অন্য এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে এই হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে মোট ৩৩৫ জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন মহিলা এবং ৮৮ জন শিশু।গত ২৩ মে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের ফরেনার্স ব্রাঞ্চ থেকে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, “আটক বিদেশি” ও “মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের” ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।
যদিও প্রশাসনের দাবি, এটি কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনেই একটি প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ, তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি প্রকাশ্যে “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” নীতির কথা ঘোষণা করার পরেই এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ছে।