খারিজি মাদ্রাসার উপর কড়া নজরদারি, উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের রূপরেখা ঘোষণা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
সরকারি অনুমোদনহীন খারিজি মাদ্রাসাগুলির উপর কড়া নজরদারি এবং প্রয়োজনে তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলির তালিকা তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। রবিবার উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর এমনই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
মন্ত্রী জানান, যেসব খারিজি মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদন ও অনুদানের আওতায় নয়, সেগুলির কার্যকলাপের উপর বিশেষ নজর রাখা হবে। অন্যদিকে, স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষার মান ও পরিকাঠামো বজায় রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ, বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায়-সহ বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকরা। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অগ্নিমিত্রা পাল জানান, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিককে নিয়ে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন, পানীয় জল, নাগরিক পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড বসানো, সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক সুলভ শৌচালয় তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও উত্তরবঙ্গের যেসব মন্দিরে ভক্তসমাগম বেশি হয়, সেগুলির তালিকা আগামী ২০ তারিখের মধ্যে প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। রাজ্য সরকার ধূপকাঠি শিল্পের প্রসারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী। বাল্যবিবাহ, নারী ও নাবালিকা পাচার এবং কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের মতো ঘটনা রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধ দমনে প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের কথাও জানান তিনি। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভিনরাজ্যে কর্মসূত্রে চলে যাওয়া শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শহরগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তা ও উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি, যত্রতত্র থুতু ফেলা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মন্ত্রী আরও জানান, ১ জুলাই থেকে পার্কিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ অটোমেটেড প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। গাঁজা, ব্রাউন সুগার-সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের পাচার ও বিস্তার রুখতে পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। বিভিন্ন পুরসভায় বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের সামনে এক বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আগামী কয়েক মাসে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন কতটা হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।