দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন আর জি কর অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার
কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় বিচার প্রক্রিয়া চালানোর অনুমোদন দিয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের জারি করা এক নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল, যিনি এই ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, তিনি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এফআইআর ও সংশ্লিষ্ট নথিসহ মামলার সমস্ত তথ্য ও রেকর্ড “পূর্ণাঙ্গ ও সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা” করার পর এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এই মামলা আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সন্দীপ ঘোষের অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে ক্রয় প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে কথিত আর্থিক অনিয়মকে ঘিরে।
কলকাতা হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট একটি আবেদনের শুনানিতে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর তালা থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরটি সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখার হাতে তুলে দেওয়া হয়।পরে সিবিআই সন্দীপ ঘোষের এবং তিনটি সংস্থা — মা তারা ট্রেডার্স, ঈশান ক্যাফে এবং খামা লৌহার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে।
নির্দেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযোগিত অপরাধগুলি PMLA-র তালিকাভুক্ত অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। এর ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ২০২৪ সালের আগস্টে একটি ECIR নথিভুক্ত করে অর্থপাচারের তদন্ত শুরু করে।নির্দেশে বলা হয়েছে, “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা করা নথিপত্রে প্রাথমিকভাবে সন্দীপ ঘোষের ভূমিকার ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কাজ ও গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।”রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, উপযুক্ত আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এই অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।তিনি পিটিআই-কে বলেন, “সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখার পরই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই অনুমোদন দিয়েছে। জনস্বার্থ এবং আইনি বিধান মেনেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।”
গত বছর থেকে হাসপাতাল প্রশাসন ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে রয়েছেন সন্দীপ ঘোষ। ২০২৪ সালে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চত্বরে এক চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় স্তরে শিরোনামে আসে।