আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের পথে শকুন্তলা, স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের উদ্যোগ রাজ্যের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের পথে শকুন্তলা, স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের উদ্যোগ রাজ্যের
আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের পথে শকুন্তলা, স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের উদ্যোগ রাজ্যের
ঝাড়গ্রাম: 

একসময় জঙ্গলমহলে সক্রিয় মাওবাদী কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। দীর্ঘ সশস্ত্র জীবনের ইতি টেনে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবার তাঁর পুনর্বাসনে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসন নীতির আওতায় তাঁকে স্পেশাল হোমগার্ড হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

রাজ্য পুলিশের সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের কাছে পৌঁছবে। নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, আবাসন এবং অন্যান্য পুনর্বাসন সুবিধাও দেওয়া হবে।অভাবের তাড়নায় জঙ্গলপথ, এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা

ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির মেছুয়া গ্রামের কুড়মি পরিবারের মেয়ে শকুন্তলা একসময় দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে বাড়ি ছেড়ে মাওবাদী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর পরিবার এখনও চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। অসুস্থ মা, সীমিত আয় এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক বঞ্চনার মধ্যে নতুন আশার আলো দেখছেন পরিবারের সদস্যরা।

শকুন্তলার ভাই অমিয় মাহাতো বলেন,"অভাবের কারণেই দিদি সেই সময় ভুল পথে চলে গিয়েছিল। এখন সে আত্মসমর্পণ করেছে। সরকারের সহযোগিতায় ওর নতুন জীবন শুরু হোক, এটাই আমাদের আশা।"
 
ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা জঙ্গল এলাকা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেন শকুন্তলা। তাঁর মাথার ওপর ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা ছিল। আত্মসমর্পণের ক্ষেত্রে প্রাক্তন মাওবাদী রঞ্জিত পালের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছে নিরাপত্তা মহল।

রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে শকুন্তলার এক ভিন্ন পরিচয়। সহযোদ্ধাদের বর্ণনায় জানা গেছে, জঙ্গলে থাকাকালীন আহত পাখির পরিচর্যা করা কিংবা মা-হারা হনুমান শাবককে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করতেন তিনি। মাওবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পোশাকে তাঁর কোলে একটি হনুমান শাবককে নিয়ে থাকা পুরনো ছবিও সম্প্রতি সামনে এসেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের সমাজে ফিরিয়ে আনতে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শকুন্তলার নতুন জীবন শুরু করার উদ্যোগ জঙ্গলমহলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র পথ ছেড়ে মূলধারায় ফেরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

প্রশাসনের একাংশের মতে, বন্দুক ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসা প্রাক্তন মাওবাদীদের জন্য পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অনেককে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে উৎসাহিত করতে পারে।