তামান্না কাণ্ডে নতুন করে তদন্তে পুলিশ! ড্রোন ক্যামেরায় দেখা হচ্ছে ঘটনাস্থল, মেয়ের বিচারে এবার ভরসা পাচ্ছেন তামান্নার মা
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ
তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে হওয়া বোমাবাজিতে কালীগঞ্জে ছোট্ট তামান্নার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসল পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে এই ঘটনার তদন্তে গতি আনার জন্য। আর এরপর থেকেই তামান্না মৃত্যুর তদন্তে গতি বেড়েছে পুলিশের তরফে।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের সঙ্গে সঙ্গে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পুলিশ প্রশাসন এবার ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি শুরু করছে। ড্রোনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে গোটা ঘটনাস্থল। যে রাস্তা দিয়ে অভিযুক্তরা মিছিল করতে করতে বোমাবাজি চালিয়েছিল, যেখান থেকে তামান্নার দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, পুরো বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করতে গোটা এলাকাটি ড্রোনের মাধ্যমে খুঁটিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে ড্রোনের সাহায্য নিয়ে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন কোণ থেকে হাই-ডেফিনিশন ভিডিও সংগ্রহ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, তদন্তের প্রতিটি সূত্রকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীতে এগিয়ে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখা যাবে। আসল কথা হল, পর্যাপ্ত প্রমাণ হাতে থাকলে আদালতে অপরাধীরা কোনোভাবেই পার পাওয়ার সুযোগ পাবে না।
রাজ্যে পালাবদলের পর তামান্নার মা বিচারের আশায় দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। তার পরপরই মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ আসে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা সন্দেহে এফআইআর-এ নাম থাকা ২৪ জন অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে শেষ ১৩ জনকে সম্প্রতি ধরা হয়েছে। প্রশাসনের এই অতি তৎপরতা আর তদন্তের ধরন দেখে বিচার পাওয়ার আশা দেখছেন নিহতের পরিবার।
মুখ্যমন্ত্রী প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তামান্নার মা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরেই পুলিশ যেভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তদন্ত করছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চেয়েছিলাম স্পেশাল পিপি পরিবর্তন করা হোক। আমাদের সেই দাবি মেনে রাজ্য সরকার পিপি বদলে দিয়েছেন। আমরা আশা করছি এবার উপযুক্ত বিচার পাবো। আমরা এবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়ে আশাবাদী।
সূত্রের খবর, নতুন বিশেষ সরকারি আইনজীবীর পরামর্শ মেনেই তদন্তে গতি আনতে পুলিশ এই ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহার শুরু করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পুলিশের পেশাদারি মনোভাব আশ্বস্ত করেছে তামান্নার পরিবারকে। তামান্না কাণ্ডের অপরাধীদের বিচার কত তাড়াতাড়ি হবে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছে গোটা পরিবার।