মহিলা শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেক্ষযোগ্য অবদানের জন্য ডঃ নাজিশ বেগমকে সম্মাননা প্রদান

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 19 h ago
মহিলা শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য ডঃ নাজিশ বেগমকে সম্মানিত করা হয়েছে
মহিলা শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য ডঃ নাজিশ বেগমকে সম্মানিত করা হয়েছে

আওয়াজ দ্য ভয়েস/আলিগড়

মহিলা শিক্ষা, একাডেমিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছিন্ন অবদানের জন্য আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ)-এর উইমেন্স কলেজে হিন্দির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ নাজিশ বেগমকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এই সম্মাননা তাঁকে প্রদান করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু।

এই গৌরবময় সম্মাননা অনুষ্ঠানটি ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের সময়, নয়া দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্টের নিকটবর্তী এইচ.কে.এস. সুরজিৎ হল-এ সম্পন্ন হয়। এই সেমিনারটি ভারতীয় দুই মহান সমাজ সংস্কারক এবং মহিলা শিক্ষার অগ্রদূত সাবিত্রীবাই ফুলে এবং ফাতিমা শেখের জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল মহিলা শিক্ষার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার এবং সমকালীন সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে গভীর আলোচনা চালানো।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ন্যায়মূর্তা মার্কণ্ডেয় কাটজু তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাকে সামাজিক পরিবর্তন এবং সাংবিধানিক ক্ষমতায়নের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত মহিলাদের মানসম্মত শিক্ষা এবং বৌদ্ধিক স্বাধীনতা না দেওয়া হয়, ততক্ষণ সত্যিকার সমতা সম্ভব নয়।” ন্যায়মূর্তা কাটজু আরও বলেছিলেন যে, সাবিত্রীবাই ফুলে এবং ফাতিমা শেখের সংগ্রাম, সাহস এবং অবদান আজকের সামাজিক প্রেক্ষাপটেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, যেমনটি তাদের সময়ে ছিল।

সেমিনারে বক্তারা ভারতীয় মহিলা শিক্ষার ইতিহাস তুলে ধরেছেন এবং সাবিত্রীবাই ফুলে ও ফাতিমা শেখ দ্বারা শুরু করা অগ্রণী শিক্ষামূলক আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়েছেন। তারা বলেন, এই দুই সমাজ সংস্কারকের প্রচেষ্টা শুধু মহিলাদের শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেনি, বরং বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের পথও প্রসস্ত করেছে। সেই সময়ে যখন মহিলাদের, বিশেষত সুবিধাবঞ্চিত স্তরের মহিলাদের শিক্ষা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না, তখন এই দুই জন সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করে সমাজকে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

এই উপলক্ষে ডঃ নাজিশ বেগম তাঁর বক্তব্যে ফাতিমা শেখের ভূমিকার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ফাতিমা শেখ সাবিত্রীবাই ফুলের সঙ্গে মিলিত হয়ে নিজের বাড়িতেই একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা ভারতের কন্যাশিশু শিক্ষার ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।” ডঃ বেগম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাবিত্রীবাই ফুলের উত্তরাধিকার স্মরণ করা হলে ফাতিমা শেখের অবদানকেও সমানভাবে সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। দুই জন মিলিত হয়ে মহিলা শিক্ষার একটি শক্তিশালী, স্থায়ী এবং অনুপ্রেরণামূলক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যার প্রভাব আজও সমাজে লক্ষ্য করা যায়।

ডঃ নাজিশ বেগমকে প্রদত্ত এই সম্মাননা শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত শিক্ষামূলক এবং সামাজিক প্রচেষ্টার প্রশংসা নয়, বরং মহিলা শিক্ষা এবং লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে কাজ করা শিক্ষাবিদদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর কাজ প্রমাণ করে যে, শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা, সমতা এবং ন্যায়কে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এই সম্মাননা অনুষ্ঠান মহিলা শিক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করার এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে অবিরত প্রচেষ্টা চালানোর একটি মূল্যবান বার্তা নিয়ে এসেছে।