জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডার ভালেসা গ্রামে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশিক্ষণের জন্য শিবিরে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকরা
নয়াদিল্লি
প্রতি শীতেই বরফে ঢাকা উঁচু পাহাড়ি ঘাঁটি ছেড়ে পাকিস্তান–সমর্থিত জঙ্গিরা নেমে আসে জম্মু ও কাশ্মীরের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ গ্রাম ও জনপদে। তবে এ বছর সেই পরিচিত পথ আর আগের মতো মসৃণ নয়। কারণ, এবার তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত এক সাহসী অসামরিক প্রতিরোধ শক্তি, যারা নিজেদের ভিটে ও মানুষকে রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কাশ্মীর সীমান্তবর্তী চেনাব উপত্যকায় প্রায় ১৫০ জন গ্রামবাসী, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা, সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র চালনা ও যুদ্ধকৌশলের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁরা সরাসরি জঙ্গিদের মোকাবিলায় নামতে প্রস্তুত।
দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় যুক্ত করার লক্ষ্যে সংশোধিত যে প্রকল্প চালু হয়েছে, তারই অংশ এই প্রশিক্ষণ। ‘ভিলেজ ডিফেন্স গার্ডস (VDG) স্কিম’-এর উদ্দেশ্য, জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ভিলেজ ডিফেন্স গার্ডদের মধ্যে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ থাকবেন মহিলা স্বেচ্ছাসেবক। সূত্রের খবর, অস্ত্র হাতে নেওয়া ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে মহিলা স্বেচ্ছাসেবক পাওয়া সহজ না হলেও ডোডা জেলায় নারীদের মধ্যে চোখে পড়ার মতো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। প্রশিক্ষকরাও তাঁদের এই উদ্যোগে এগিয়ে আসতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
এটি জম্মু ও কাশ্মীরের সন্ত্রাসদমন অভিযানে এক নতুন অধ্যায়। সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (BSF), কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) ও স্থানীয় পুলিশ, এই তিন বাহিনী মিলেই অসামরিক স্বেচ্ছাসেবকদের অস্ত্র পরিচালনা, বাঙ্কার নির্মাণ এবং জঙ্গি ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
এই VDG প্রকল্পটি ১৯৯৫ সালে চালু হওয়া এবং পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ভিলেজ ডিফেন্স কমিটি (VDC)’ প্রকল্পের সংশোধিত রূপ। আগের প্রকল্পটি পারিশ্রমিক সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে VDG সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাসিক ৪,৫০০ টাকা সম্মানী পান।
আগে প্রতিটি VDC-র এক বা দুইজন সদস্যকে পুরো দলের পারিশ্রমিক দেওয়া হত, যা অন্যদের মধ্যে বণ্টনের কথা ছিল। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে নেতৃত্ব অর্থ ভাগ না করায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ফলে VDC ব্যবস্থাটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং সন্ত্রাসদমন অভিযানে বড় ধাক্কা লাগে।
২০২২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নতুন করে VDG প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করে এবং গত ডিসেম্বর থেকে তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মাত্র এক মাসের মধ্যেই এই ভিলেজ ডিফেন্স গার্ডরা ডোডার দেশা গ্রাম ও রামবান এলাকায় দুটি বড় জঙ্গি হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ডোডা, উদ্যমপুর, রিয়াসি, রাজৌরি, পুঞ্চ, কাঠুয়া ও সাম্বা জেলায় ধাপে ধাপে ভিলেজ ডিফেন্স গার্ড গঠন করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে শক্তি বাড়ানো এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একাধিক স্তরের প্রতিরোধ গড়ে তোলা।