সুন্দরবনের মুসলিম মহিলারা দেখালেন উদারতা নিজেদেরই জোটে না, তবুও ভোটের ডিউটিতে থাকা জওয়ানদের রেঁধে খাওয়ালেন তাঁরা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
সুন্দরবনের মুসলিম মহিলারা দেখালেন উদারতা নিজেদেরই জোটে না, তবুও ভোটের ডিউটিতে থাকা জওয়ানদের রেঁধে খাওয়ালেন তাঁরা
সুন্দরবনের মুসলিম মহিলারা দেখালেন উদারতা নিজেদেরই জোটে না, তবুও ভোটের ডিউটিতে থাকা জওয়ানদের রেঁধে খাওয়ালেন তাঁরা
 
তরুণ নন্দী,কলকাতাঃ

নির্বাচনের দিনে সুন্দরবনের মানুষ দেখিয়ে দিলে বাংলার মানুষের মন কত বড়। এখানে ভোটের উত্তাপ বা অভিযোগের পাহাড় নেই, মানুষের মধ্যে রয়েছে মানবিকতা। যে সুন্দরবনের মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরায়, যাদের জীবন প্রতিদিন লড়াই করে বাঘ আর নোনা জলের সঙ্গে, তারাই আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার স্যান্ডেল বিল পঞ্চায়েতের ভেটকিয়া গ্রাম। 
 
 
ভোটের দিনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা বা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলে নানা চর্চা। তবে হিঙ্গলগঞ্জের ভেটকিয়া গ্রামের ১২৬ নম্বর বুথের চিত্রটা কিন্তু একেবারে আলাদা। এখানে বন্দুকধারী জওয়ানদের নিশানা করে গ্রামবাসীদের কোন অভিযোগ নেই, উল্টে গ্রামবাসীরাই বাড়িয়ে দিয়েছেন ভালোবাসার হাত। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে দুপুরের জন্য আয়োজন চলছে হরেক রকমের পদ। তৃপ্তিদায়ক আহারে তৃপ্ত জওয়ানেরাও। গ্রামবাসীরা সবটাই পরম মমতায় তুলে দিয়েছেন ভোটে ডিউটিতে আসা বাহিনীর হাতে। 
 
 
জানা গেছে, এই গ্রামের মহিলারা ভোরে উঠে নিজেদেরাই দায়িত্ব নিয়ে হাঁড়ি চড়িয়েছিলেন বাহিনীর জন্য। নিজেদের অভাবের সংসারেও একমুঠো অন্ন বেশি করে ফুটিয়েছেন জওয়ানদের জন্য। আসলে গ্রামের মানুষেরা এমনই সহজ সরল আর মানবিক হন। কেন এই আয়োজন? উত্তরে গ্রামবাসীরা জানালেন, উনারা তো আমাদের ঘরের ছেলের মতোই। ভিনরাজ্য থেকে এসেছেন এই জওয়ানরা  আমাদের নিরাপত্তা দিতে। ভোটের জন্য রোদে-পুড়ে ডিউটি করছেন তাঁরা। আমরা একটু করে খাওয়ালে এমন কী ক্ষতি হবে? ওঁদের পাশে থাকাটা তো আমাদেরও দায়িত্ব।
 
 
 
সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জের ভেটকিয়া গ্রামের ১২৬ নম্বর বুথের চিত্র
 
 
বলতে গেলে সুন্দরবনের এই মায়েরা যেন মনে করিয়ে দিলেন,  জওয়ানের পোষাকে থাকা মানুষগুলোরও খিদে পায়, তাঁদেরও বাড়িতে পরিজনেরা অপেক্ষায় থাকে। তাই জওয়ানদের সামনে ভাতের থালা দিয়েই সুন্দরবনের মানুষ বুঝিয়ে দিলেন মানুষ মানুষের জন্য।হিঙ্গলগঞ্জের মানুষের মানবিক এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বাহবা দিচ্ছেন নেটিজেনরা। নানা মানুষের বিরূপ মন্তব্য শুনে অভ্যস্ত জওয়ানেরাও গ্রামবাসীদের এই আতিথেয়তায় অভিভূত।তাঁদের কাছে দুপুরের রোদে ঠান্ডা জল আর গ্রামের মানুষের হাতের তৈরি খাবারের স্বাদ সব মিলিয়ে ছিল এক বাড়তি পাওনা।
 
 
সুরক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানদের জন্য মুসলিম মহিলারা নিজেদের হাতে রান্না করা খাবার প্রদান করছেন
 
 
 প্রতিবারই ভোট আসবে, ভোট যাবে। জয়-পরাজয়ের নানা হিসাব কষা হবে রাজনীতির ময়দানে। কিন্তু সুন্দরবনের এই মানুষগুলো যাঁদের দুবেলা খাবার ঠিকমতো জোটে না তাঁরা প্রমাণ করে দিলেন পেটের ক্ষুধা বড় হলেও মনের উদারতা তার চেয়েও বড়।