মহাকাশে ‘লোকতাক’-এর ছাপ! মণিপুরের বিজ্ঞানীর হাত ধরে ১২.৬ বিলিয়ন বছরের প্রাচীন গ্যালাক্সি গুচ্ছের সন্ধান

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 14 h ago
মহাকাশে ‘লোকতাক’-এর ছাপ! মণিপুরের বিজ্ঞানীর হাত ধরে ১২.৬ বিলিয়ন বছরের প্রাচীন গ্যালাক্সি গুচ্ছের সন্ধান
মহাকাশে ‘লোকতাক’-এর ছাপ! মণিপুরের বিজ্ঞানীর হাত ধরে ১২.৬ বিলিয়ন বছরের প্রাচীন গ্যালাক্সি গুচ্ছের সন্ধান
 
আওয়াজ দ্য ভয়েস

মহাকাশ গবেষণার জগতে নতুন ইতিহাস গড়লেন মণিপুরের তরুণ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. রোনাল্ডো লৈশ্রম। তাঁর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক গবেষক দল আবিষ্কার করেছে প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন বছর পুরনো এক বিশাল তরুণ গ্যালাক্সি কাঠামো, যা মহাবিশ্বের একেবারে প্রাথমিক যুগে গ্যালাক্সিগুলির বিবর্তন সম্পর্কে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
 
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় আবিষ্কৃত বিশাল প্রোটোক্লাস্টারের নাম রাখা হয়েছে “লোকতাক প্রোটোক্লাস্টার”। মণিপুরের বিখ্যাত লোকতাক হ্রদের নামেই এই নামকরণ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায়, প্রোটোক্লাস্টার হল গ্যালাক্সির এক প্রাথমিক গুচ্ছ, যা মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে ধীরে ধীরে এক বিশাল “গ্যালাক্সির শহর”-এ পরিণত হয়।
 
গবেষকদের দাবি, এই কাঠামো তৈরি হয়েছিল তখন, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল মাত্র প্রায় ১.২ বিলিয়ন বছর। চারটি পরস্পর সংযুক্ত গ্যালাক্সি-ঘনত্ব নিয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল কাঠামোকে লোকতাক হ্রদের ভাসমান ‘ফুমদি’-র সঙ্গে তুলনা করেছেন বিজ্ঞানীরা।
 
বর্তমানে জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি অফ জাপান (NAOJ)-এ কর্মরত ড. রোনাল্ডো লৈশ্রম বলেন, “লোকতাক মণিপুরের পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে। এই আবিষ্কারের নাম লোকতাক রাখার মাধ্যমে আমি আমার জন্মভূমিকে মহাবিশ্বের গল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছি।” তাঁর কথায়, “লোকতাক নামটি এখন মহাবিশ্বের ইতিহাসেও প্রতিধ্বনিত হবে।”
 
এই গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক গবেষক দল ব্যবহার করেছে জাপানের সুবারু টেলিস্কোপ এবং অত্যাধুনিক জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়েই ঘন পরিবেশে থাকা গ্যালাক্সিগুলি অপেক্ষাকৃত কম ঘন অঞ্চলের গ্যালাক্সির তুলনায় ভিন্নভাবে বিবর্তিত হচ্ছিল।
 
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, একটি গ্যালাক্সির চারপাশের পরিবেশ তার বৃদ্ধি ও গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে মহাবিশ্বের জন্মপর্ব এবং গ্যালাক্সির বিবর্তন বুঝতে এই আবিষ্কার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
 
মণিপুরের থৌবল জেলার খাঙ্গাবোকের বাসিন্দা ড. লৈশ্রম তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি টোকিওতে NAOJ-এ যোগ দেন। গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তন নিয়েই তাঁর মূল গবেষণা। ইতিমধ্যেই একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।
 
খুব ছোটবেলা থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ ছিল তাঁর। মাত্র ১৮ বছর বয়সে একটি প্রাথমিক গ্রহাণু আবিষ্কার করে তিনি আলোচনায় আসেন। সেই কৃতিত্বের জন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের হাত থেকেও সম্মাননা পেয়েছিলেন তিনি।
 
বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান জনপ্রিয় করতে ‘মণিপুর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-র প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করছেন ড. লৈশ্রম। এছাড়াও শিক্ষা ও মেন্টরশিপ নিয়ে কাজ করা ‘ওভিএডু’ এবং ‘মিটসনা ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গেও যুক্ত তিনি।
 
উল্লেখ্য, গবেষণাপত্রটির শিরোনাম, “Discovery of a z ≃ 4.9 Lyα Emitter Protocluster: Wavelength-dependent Environmental Effects on Galaxy Structure”। এই গবেষণায় ড. রোনাল্ডো লৈশ্রমের সঙ্গে আরও একাধিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছেন।