উপনির্বাচনের দিন সকালেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বড়সড় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক মন্তব্যকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে আটক করল পুলিশ। অভিযোগ, হুমায়ুনের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দলীয়কর্মীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশের সঙ্গে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে ধস্তাধস্তি হয়। এরপর পুলিশকর্মীরা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে টেনে গাড়িতে তোলেন।
উপনির্বাচন হলেও এই রেজিনগরের ভোটের পরিবেশে উত্তেজনার আঁচ ছিল প্রথম থেকেই। এদিন সাত সকালেই সপরিবারে ভোট দিতে যাওয়ার সময় থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন হুমায়ুন। ভোট দিয়ে বেরিয়েও বাহিনীকে নিশানা করে একের পর এক মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
হুমায়ুনের অভিযোগ ছিল, তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে সকাল থেকেই। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েও সেই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে ভোট দেওয়ার পর বুথ থেকে বেরিয়ে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব না কি!” রেজিনগরবাসীকে ‘মুগুর নিয়ে’ রুখে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ ভোটের নামে মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেবে? আমাদের ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেও শান্তি হয়নি।
এরপর নিজের দলীয় কার্যালয়ে যান হুমায়ুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যায় পুলিশ। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে শুরু হয় তীব্র বাগ্বিতণ্ডা। সেই সময় হুমায়ুনকে পুলিশের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “দালালি করবেন না, দালালি করবেন না।”। মুহুর্তের মধ্যে দলীয়কর্মীদের সামনবেই পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভোটের সকালেই হুমায়ুন কবির আটক
পুলিশের সঙ্গে বচসার পর শেষ পর্যন্ত হুমায়ুনকে ধরে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রেজিনগর থানায়। রেজিনগরের উপনির্বাচনের দিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নতুন করে চড়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ বেড়ে গেল। কেন তাঁকে আটক করা হল, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের নির্দিষ্ট অভিযোগ কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন খুঁজতে শুরু করেছে রেজিনগরের ভোটাররা।