দেবকিশোর চক্রবর্তী
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে গুলি করে খুন করা হলো শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতের এই রোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে তাঁর গাড়িকে লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি চালায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথ নিজের গাড়িতে করে দোহারিয়া এলাকার রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই মোটরবাইকে করে কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে তাঁর গাড়ির পথ আটকায়। এরপর খুব কাছ থেকে পরপর গুলি চালানো হয়। গুলির শব্দে গোটা এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভিতরেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ রথ।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ক হিসেবে কাজ করতেন বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন দলের একাংশের নেতারা।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক কারণ নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এই খুন— তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের স্বার্থে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং রাতভর তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ব্যস্ত রাস্তায় এভাবে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক তরজা যখন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তখন এই হত্যাকাণ্ড রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।