ভয়ের জমানা শেষ! ১০ বছর পর নিজের গ্রামে সিরাজুল-আনসাররা, তৃণমূলের পতন হতেই ঘরে ফিরল ২০০ পরিবার
তরুণ নন্দী / কলকাতা
তৃণমূলের পতনের সঙ্গে সঙ্গে শাহজাহানের 'সাম্রাজ্য' ধসে পড়তেই ফের ঘরে ফিরে আনন্দে ভাসলেন ২০০ সংখ্যালঘু পরিবার। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালীর সরবেড়িয়া আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের এই মানুষগুলো ১০ বছর পর নিজের গ্রামে আসতে পেরে অতীতের স্মৃতি ভুলতে চাইছেন। তৃণমূলের দাপুট মাটিতে মিশে যেতেই বিজেপি কর্মীদের হাত ধরে পুনরায় নিজের ভিটেমাটিতে পা রাখলেন ঘরছাড়া ২০০টি পরিবার।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালি বিধানসভার সিংহভাগ অঞ্চল দীর্ঘকাল ধরে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের দাপট দেখা যেত। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এই সন্দেশখালিতে দেশের সংবিধানের আইনের বদলে চলত শাহজাহান ও তার বাহিনীর মর্জিমতো শাসন। সাধারণ মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে মহিলাদের ওপর নির্যাতন, এক ভয়ংকর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে দিন কাটত স্থানীয়দের।
বিশেষ করে রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্য এই অঞ্চল ছিল অন্য রাজনৈতিক দলের কাছে নরক। বুধবার যারা ঘরে ফিরলেন, তাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। স্রেফ রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে এক দশক ধরে ঘরছাড়া হয়ে অন্য কোথাও গিয়ে যাযাবরের মতো কাটিয়েছেন তারা।
এদিন গ্রামে ফিরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সিরাজুল শেখ সহ বহু সংখ্যালঘু পরিবার। দীর্ঘ ১০ বছর পর নিজের বাড়ির উঠোনো দাঁড়িয়ে তারা বললেন, শুধু বিজেপি করতাম বলে প্রথমে হুমকি পরে শাহজাহানের দলবল আমাদের অন্তত ১০ বার লুটপাট করেছে। ১০টা বছর এলাকাছাড়া ছিলাম। আজও সেই দিনগুলোর কথা মনে করলে নিজেদের মাটিতে দাঁড়িয়ে বুকটা কাঁপছে।
একই সুর শোনা গেল প্রবীণ আনসার আলি শেখের গলায়। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধ আক্ষেপ করে জানালেন, শাহাজাহানের ভয়ে আমার ছেলেরা ১০ বছর বাড়ির বাইরে থেকেছে। আরেক বাসিন্দা শেখ আতাউর রহমান, পালাবদলের পরও ভয় কাটাতে না পেরে প্রশাসনের কাছে সরাসরি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর কথা, আজ বিজেপি কর্মীরা সাহস জুগিয়েছে বলে ফিরতে পেরেছি, কিন্তু প্রশাসন পাশে না থাকলে এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়া কঠিন।
তৃণমূলের পতনের পর সন্দেশখালিতে যেন নতুন সকাল ফিরে এসেছে। গ্রামের মহিলারা শাঁখ বাজিয়ে, মিষ্টি বিতরণ করে স্বাগত জানিয়ে গ্রামে প্রবেশ করালেন ঘরছাড়াদের। তবে ফেরার আনন্দের মাঝেই রয়েছে চাপা আতঙ্ক। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শাহজাহানের অনুগামীরা এখনও এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ফলে তাদের মধ্যে এখনও পূর্ণ নিরাপত্তার আত্মবিশ্বাস জন্মায়নি। এখন দেখার, ঘরছাড়ারা ঘরে ফিরলেন বটে কিন্তু প্রশাসন এই পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে কতটা সচেষ্ট হয়।