রাজনীতির ময়দানে দ্বিতীয় ইনিংসে কী দেখা যাবে সাঁতারু বুলা চৌধুরীকে?

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 4 Months ago
 সাঁতারু বুলা চৌধুরী
সাঁতারু বুলা চৌধুরী
 
শান্তি প্রিয় রায়চৌধুরী:

কয়েক দিন আগে সিএবিতে ভারতের মহিলা ক্রিকেটার রিচা ঘোষের সংবর্ধনা  অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সাতারু বুলা চৌধুরী। সেই অনুষ্ঠানে রিচা ঘোষকে সংবর্ধনা দিতে গিয়ে বুলা চৌধুরীর অর্জুন পুরস্কার প্রসঙ্গটা তুলে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বুলা চৌধুরীর অর্জুন পুরস্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। আর এই প্রসঙ্গটা কাজে লাগাতেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বুলা চৌধুরীর কসবার বাড়িতে মঙ্গলবার পৌঁছে যান।
 
এদিন কিছু সময় বৈঠকের পর বিজেপির ক্রীড়াসেলে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রাক্তন সাঁতারু বুলা চৌধুরীকে প্রস্তাব দেন তিনি। এর পরই সুকান্ত বলেন, “ওঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত। আমরা যখনই সুযোগ পাব, তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাব।'আচমকা বুলা চৌধুরীর বাড়িতে সুকান্তর পৌঁছে যাওয়াটা নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি রাজনীতির ময়দানে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে দেখা যাবে তাঁকে? 

রাজ্যে সুইমিং অ্যাকাডেমি খোলার ইচ্ছে রয়েছে বুলা চৌধুরীর। কিন্তু, জায়গা পাচ্ছেন না। এই নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেছেন সুকান্ত। একইসঙ্গে কেন্দ্র কোনওভাবে এই সুইমিং অ্যাকাডেমি খোলার ক্ষেত্রে তাঁকে সাহায্য করতে পারে কি না, তা দেখার কথা বলেন। সেজন্য কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে ডিসেম্বরে বুলা চৌধুরীর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সুকান্ত। বুলা চৌধুরীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সুকান্ত বলেন, “এটা উনি সিদ্ধান্ত নেবেন।”

বুলা চৌধুরী এদিন বলেছেন,  "সুইমিং অ্যাকাডেমি খোলা আমার স্বপ্ন। কিন্তু জায়গার অভাবে তা আটকে আছে। আমার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়ে যেতে চাই। না হলে আমার স্বপ্ন দেখাটা বৃথা যাবে।” সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তাহলে কী বিজেপির হাত ধরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই স্বপ্নটা পূরন করার চেষ্টা করবেন? সাঁতারের কিংবদন্তি   বলেন, “জলই তো আমার জীবন। সেই জলকে সাক্ষী  রেখে আগামি দিনের সাঁতারুদের জন্য কিছু তো একটা করে যেতে চাই। সেটা কি ভাবে আসবে বলতে পারব না।”

তবে বুলা চৌধুরীর নামটা আবার রাজনৈতিক ভেসে  উঠল। একসময় সিপিএমের হয়ে ভোট ময়দানে নেমেছিলেন তিনি।২০০৬ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের নন্দনপুর বিধানসভা আসনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, যে আসনটি বর্তমানে নেই। সেই আসনে জিতে ৫ বছর বিধায়কও ছিলেন। তারপর তাকে ১৪টা বছর আর রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়নি।গতকালের পর প্রশ্ন উঠে গেল, এবার কি রাজনীতির ময়দানে তাঁকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে দেখা যাবে?