নামাজের স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে কী বললেন ‘শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’র জনপ্রিয় বিচারক নমিতা থাপার

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
নমিতা থাপার
নমিতা থাপার
 
আওয়াজ–দ্য ভয়েস / নয়া দিল্লি

টিভি রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’র জনপ্রিয় বিচারক তথা ‘শুগার কসমেটিক্স’-এর বিনিতা সিংয়ের সঙ্গে দেখা যাওয়া নমিতা থাপার এই কয়েকদিনে নিজের একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের প্রতি সর্বদা সচেতন নমিতা সম্প্রতি নামাজের শারীরিক ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়ে উল্লেখ করেছেন।
 
ঈদের দিনে কয়েকজন মুসলিম বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়ার মাধ্যমে তিনি নামাজের শারীরিক ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারেন। নমিতা জানান, তাঁর বন্ধুরা নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গিমার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার পর তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং বিষয়টি সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।
 
 
নমিতা তাঁর ভিডিও বার্তায় নামাজের আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় দিকের পরিবর্তে এর বৈজ্ঞানিক ও শারীরিক দিকের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, নামাজের বিভিন্ন ভঙ্গিমা শরীরের জন্য একপ্রকার সম্পূর্ণ ব্যায়ামের মতো কাজ করে। তাঁর মতে, নামাজ আদায়ের ফলে হজম প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নামাজের ভঙ্গিমাগুলি বিশেষভাবে উপকারী, বিশেষত যাঁরা জয়েন্টের ব্যথায় ভুগছেন, কারণ এটি শরীরকে নমনীয়তা প্রদান করে।
 
তদুপরি, তিনি এর মানসিক উপকারিতার দিকেও আলোকপাত করে বলেন, দিনে পাঁচবার কাজ থেকে কিছুটা সময় নিয়ে ইবাদত করলে মানসিক শান্তি লাভ হয় এবং সম্মিলিতভাবে নামাজ আদায় করার ফলে সামাজিক সম্পর্কও মজবুত হয়।
 
তবে, নমিতার শেয়ার করা এই বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলোকে কিছু মানুষ সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করেছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ট্রোল করতে শুরু করেছে। সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানো কিছু গোষ্ঠী এবং ইউটিউব চ্যানেলগুলো নমিতার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেছে।
 

অন্যদিকে, কেউ কেউ তাঁর ব্যবসায়িক কেরিয়ারকে উপহাস করেছে। আবার একাংশ এটিকে “যোগ বনাম নামাজ” বিতর্কে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁদের যুক্তি ছিল, নমিতা যোগের প্রশংসা করেননি, যদিও বাস্তবে একটি বিষয়ের প্রশংসা করা মানে অন্যটিকে অপমান করা নয়।
 
বিশ্বজুড়ে অসংখ্য গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নামাজের সময় করা ‘রুকু’ ও ‘সিজদা’র মতো ভঙ্গিমা মেরুদণ্ড এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর পরেও নমিতাকে ‘হিন্দু-বিরোধী’ বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও ভিত্তিহীন।
 
সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিতর্ক দেখায়, কীভাবে একাংশ মানুষ শুধুমাত্র প্রচারের জন্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আলোচনাকেও সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে পারে। ধারাবাহিকভাবে নারী ক্ষমতায়ন ও জনস্বাস্থ্যের পক্ষে কথা বলা নমিতা থাপারের মতো একজন সফল উদ্যোক্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতারই প্রতিফলন। এই সমগ্র ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা উচিত।